Oplus_16908288

সংগ্রাম থেকে জয়: গোঘাটে বিজেপির সাফল্যে কর্মীদের সংযমের বার্তা দিলেন দোলন দাস

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির সাফল্যের প্রেক্ষাপটে আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার সেক্রেটারি তথা গোঘাটের বিজেপি নেত্রী দোলন দাস এক আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “কর্মের পর ফল খুব আনন্দেরই হয়”—দীর্ঘ সংগ্রাম ও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে এই জয় এসেছে বলে দাবি করেন তিনি। ২০১৩-১৪ সালে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে বলে জানান দোলন দাস। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে বারবার অত্যাচারের মুখে পড়তে হয়েছে—ঘর ভাঙচুর, দোকান বন্ধ করে দেওয়া থেকে শুরু করে এমন সময়ও এসেছে যখন তিনি দু’বেলা খাবার জোগাড় করতেও সমস্যায় পড়েছেন। একসময় তাঁর ব্যবসাও বন্ধ হয়ে যায় বলে তিনি দাবি করেন। এই সমস্ত প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দলের কাজ চালিয়ে গিয়েছেন এবং কর্মীদের পাশে থেকেছেন বলে জানান। তাঁর কথায়, “দল যা নির্দেশ দিয়েছে, সেই মতো কাজ করেছি।” তিনি মনে করেন, গোঘাটের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ইস্যুতে ক্ষুব্ধ ছিলেন এবং এই নির্বাচনী ফল সেই জনমতেরই প্রতিফলন। দোলন দাস বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, এলাকায় বহু পরিবার রাজনৈতিক হিংসার শিকার হয়েছে এবং বহু মায়ের “কোল খালি” হয়ে গেছে। সেই পরিস্থিতি থেকে উঠে দাঁড়ানো সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মহিলাদের প্রতিরোধ এবং মানসিক শক্তিই ভোটে প্রতিফলিত হয়েছে বলে তাঁর দাবি। তিনি আরও জানান, কয়েক বছর আগেও বুথ স্তরে সংগঠন গড়ে তোলা ছিল অত্যন্ত কঠিন কাজ। ভয়ের পরিবেশে অনেকেই প্রকাশ্যে দলের পক্ষে দাঁড়াতে সাহস পেতেন না। সেই পরিস্থিতিতে দলের কর্মীরা ধীরে ধীরে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করেছেন। এই প্রসঙ্গে তিনি কার্যকর্তাদের লড়াই ও জনসংযোগের কথাও উল্লেখ করেন। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দোলন দাস বলেন, দল যেখানে যে দায়িত্ব দেবে, তিনি তা পালন করতে প্রস্তুত। তবে জয়ের পর কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বিশেষ বার্তা দিয়েছেন—সংযম, শান্তি এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনও বেআইনি কাজে দল কোনওভাবেই পাশে থাকবে না এবং আইন অনুযায়ী প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। সব মিলিয়ে, গোঘাটে বিজেপির এই জয়কে তিনি দীর্ঘদিনের সংগ্রাম, সংগঠন গড়ে তোলা এবং সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই ব্যাখ্যা করেছেন, পাশাপাশি নতুন পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল আচরণের ওপর জোর দিয়েছেন।

Oplus_16908288

Loading