ব্রিগেডের মঞ্চে নতজানু মোদি, জনতার উদ্দেশে কৃতজ্ঞতার প্রণাম

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে আজকের দিনটি শুধু একটি সরকার গঠনের দিন নয়, বহু মানুষের কাছে এটি যেন এক দীর্ঘ প্রতীক্ষার পূর্ণতা। ব্রিগেডের বিশাল শপথগ্রহণ মঞ্চে যখন নতুন সরকার শপথ নিচ্ছে, চারদিকে তখন জনসমুদ্রের ঢেউ। সেই আবেগঘন মুহূর্তেই এক অন্য ছবি ধরা পড়ল—হাজার হাজার মানুষের উদ্দেশে নতজানু হয়ে প্রণাম জানালেন নরেন্দ্র মোদী।রাজনীতির মঞ্চে এমন দৃশ্য সচরাচর দেখা যায় না। ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা একজন প্রধানমন্ত্রী, অথচ তাঁর শরীরী ভাষায় নেই কোনও অহংকার, নেই ক্ষমতার গর্ব। বরং ছিল কৃতজ্ঞতা, বিনয় আর মানুষের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। ব্রিগেডের সেই মুহূর্ত যেন রাজনৈতিক সীমারেখা ছাপিয়ে এক আধ্যাত্মিক আবহ তৈরি করেছিল। ভারতীয় সংস্কৃতিতে ‘প্রণাম’ শুধুমাত্র একটি অভিবাদন নয়, এটি আত্মসমর্পণ, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার প্রতীক। প্রধানমন্ত্রী যখন দুই হাত জোড় করে জনতার সামনে মাথা নত করলেন, তখন অনেকের কাছেই তা শুধুমাত্র রাজনৈতিক সৌজন্য বলে মনে হয়নি। যেন তিনি বাংলার মানুষের রায়কে, তাঁদের বিশ্বাসকে এবং গণতন্ত্রের শক্তিকেই প্রণাম জানালেন। ব্রিগেডের আকাশে তখন ভেসে আসছে শঙ্খধ্বনি, উচ্ছ্বাস, স্লোগান। কিন্তু সেই শব্দের মাঝেও প্রধানমন্ত্রীর নতজানু প্রণামের দৃশ্য এক অন্য বার্তা বহন করছিল—ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, মানুষের আশীর্বাদই শেষ কথা। রাজনীতি যখন প্রায়শই সংঘাত, কটাক্ষ আর বিভাজনের ভাষায় আবদ্ধ হয়ে পড়ে, তখন এই এক মুহূর্ত যেন স্মরণ করিয়ে দিল ভারতীয় দর্শনের সেই প্রাচীন বোধ—“জনতাই জনার্দন”।অনেক প্রবীণ মানুষকে এদিন চোখ মুছতে দেখা গিয়েছে। কারও মতে এটি ছিল রাজনৈতিক পরিবর্তনের আনন্দ, কারও মতে বহু বছরের বিশ্বাসের স্বীকৃতি। আবার অনেকেই বলছেন, এ যেন শুধুমাত্র একটি শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ছিল না; এটি ছিল মানুষের আবেগ, আশা আর বিশ্বাসের এক মহামিলন। বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সেই প্রণামের দৃশ্য হয়তো আগামী দিনেও রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কারণ কিছু মুহূর্ত শুধুই ছবি হয়ে থাকে না, তারা সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে প্রতীকে পরিণত হয়। আর আজকের সেই নতজানু প্রণাম যেন ঠিক তেমনই এক প্রতীক—মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা, গণতন্ত্রের প্রতি বিশ্বাস এবং বাংলার প্রতি এক গভীর আবেগের প্রতিচ্ছবি।

Loading