সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও ভারতীয় রাজনীতির অন্যতম বর্ষীয়ান নেতা অটল বিহারী বাজপেয়ীর প্রয়াণ দিবসে তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে দেশ। ২০১৮ সালের ১৬ আগস্ট ৯৩ বছর বয়সে প্রয়াত হন দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মৃত্যুতে ভারতীয় রাজনীতির এক দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটে।
অটল বিহারী বাজপেয়ী ছিলেন ভারতীয় জনসংঘের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা নেতা এবং পরবর্তীকালে ভারতীয় জনতা পার্টির অন্যতম প্রধান মুখ। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি শুধু একজন দক্ষ রাজনীতিক হিসেবেই নয়, একজন অসাধারণ বক্তা, কবি ও সংসদীয় গণতন্ত্রের অন্যতম বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেন।
তিনি মোট তিন দফায় ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে না পারায় তাঁর সরকার মাত্র ১৩ দিন স্থায়ী হয়েছিল। এরপর ১৯৯৮ সালে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হন। সেই সরকার প্রায় ১১ মাস ক্ষমতায় থাকার পর লোকসভায় এক ভোটের ব্যবধানে আস্থা ভোটে পরাজিত হয়।
১৯৯৯ সালে ফের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বাজপেয়ী। এবার তাঁর নেতৃত্বে গঠিত NDA সরকার পূর্ণ পাঁচ বছরের মেয়াদ সম্পূর্ণ করে। ১৯৯৯ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত তাঁর নেতৃত্বে দেশের অর্থনীতি, পরিকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং বিদেশনীতি-সহ একাধিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
বাজপেয়ীর প্রধানমন্ত্রিত্বের সময়েই ভারতের পরমাণু শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ আরও স্পষ্ট হয়। ১৯৯৮ সালের পোখরান-II পরমাণু পরীক্ষার মাধ্যমে ভারত আন্তর্জাতিক মহলে নতুন কৌশলগত অবস্থান তৈরি করে। একইসঙ্গে পাকিস্তানের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ হিসেবেও তাঁর লাহোর বাসযাত্রা বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে।
দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে তাঁর সরকারের সময়ে জাতীয় সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প এবং স্বর্ণ চতুর্ভুজ প্রকল্প-এর মতো বৃহৎ উদ্যোগ নেওয়া হয়। কলকাতা, দিল্লি, মুম্বই ও চেন্নাইকে সড়কপথে সংযুক্ত করার এই প্রকল্প পরবর্তীকালে দেশের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
রাজনীতির পাশাপাশি সাহিত্য ও কবিতার ক্ষেত্রেও বাজপেয়ীর ছিল স্বতন্ত্র পরিচয়। তাঁর বক্তৃতায় যেমন ছিল যুক্তি ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, তেমনই কবিতায় ফুটে উঠত দেশপ্রেম, মানবিকতা ও জীবনবোধ। বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের নেতাদের সঙ্গেও তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও সংসদীয় সৌজন্য ভারতীয় গণতন্ত্রে একটি বিশেষ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
দেশের প্রতি তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ও জনসেবামূলক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৫ সালে তাঁকে ভারতের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘ভারতরত্ন’ প্রদান করা হয়।
প্রয়াণের আট বছর পরেও ভারতীয় রাজনীতিতে অটল বিহারী বাজপেয়ীর নাম উচ্চারিত হয় তাঁর বক্তৃতার শক্তি, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, প্রশাসনিক নেতৃত্ব এবং সর্বোপরি জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মানসিকতার জন্য। তাঁর প্রয়াণ দিবসে তাই দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের অন্যতম শ্রদ্ধেয় রাষ্ট্রনায়ককে স্মরণ করছে ভারত।

![]()

More Stories
শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসের তিরোধান দিবসে শ্রদ্ধার্ঘ্য অমিত শাহের
জম্মু-পুঞ্চ মহাসড়কে খুলল সাঙ্গাল টানেল
ঋষি অরবিন্দের ১৫৪তম জন্মবার্ষিকী: স্বাধীন ভারত সম্পর্কে তাঁর স্বপ্ন কতটা পূরণ হয়েছে?