সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ স্থানীয় এলাকার ঐতিহ্য ও জীববৈচিত্র্য অক্ষুণ্ণ রেখে সুন্দরবনের লবণাক্ত জমিকে কৃষির উপযোগী করে তোলার উদ্যোগে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল রাজ্য সরকারের ‘মাটির সৃষ্টি’ প্রকল্প। রাষ্ট্রসঙ্ঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা Food and Agriculture Organization (FAO) পশ্চিমবঙ্গের এই প্রকল্পকে সম্মানিত করেছে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গিয়েছে, আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা এবং উন্নত সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে এক ফসলি জমিকে বহু ফসলি জমিতে রূপান্তর করা হচ্ছে। এর ফলে যেমন কৃষিজ উৎপাদন বাড়ছে, তেমনই স্থানীয় কৃষকদের আর্থিক অবস্থাও মজবুত হচ্ছে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবনের জয়নগর ২ নম্বর ব্লকের নলগোড়া চুপড়িঝাড়া এলাকার কৃষক তাপস হালদার জানান, জৈব সার ব্যবহারের ফলে জমির উর্বরতা বেড়েছে এবং কৃষিকাজের পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি খরিফ মরশুমে লোনা স্বর্ণ, কনকচূড় ও দাঁতসালের মতো প্রায় লুপ্তপ্রায় ধানের প্রজাতির চাষ শুরু হয়েছে।
অপর কৃষক বিশ্বজিৎ ঘরামী বলেন, ধানের পাশাপাশি অর্থকরী ফসল হিসেবে সূর্যমুখীর চাষও সম্ভব হয়েছে। এতে কৃষকদের আয়ের নতুন পথ খুলেছে।
ব্লকের সহকারী কৃষি অধিকর্তা দেবাশীষ শাহু জানান, প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি উন্নত মানের বীজ, সার এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, “লবণাক্ত জমিকে পুনরুদ্ধার করে টেকসই কৃষি ব্যবস্থার মাধ্যমে সুন্দরবন অঞ্চলের কৃষিকে নতুন দিশা দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।”
বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, পরিবেশ সংরক্ষণ ও কৃষি উৎপাদন—এই দুইয়ের সমন্বয়ে ‘মাটির সৃষ্টি’ প্রকল্প ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য উপকূলীয় অঞ্চলের কাছেও একটি অনুসরণীয় মডেল হয়ে উঠতে পারে।

![]()

More Stories
বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্যে ৪৮০ কোম্পানি CAPF মোতায়েন, দুই দফায় পৌঁছবে বাহিনী
সিপিআই(এম) থেকে বহিষ্কার, তৃণমূলে প্রতীক উর রহমান, অভিষেকের উপস্থিতিতে যোগদান
SIR এনিউমারেশন ফর্মে ভুল তথ্য দিলে জেল হতে পারে, সতর্ক করল নির্বাচন কমিশন