সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে মাস্টারদা সূর্য সেনের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তাঁর জন্ম, শৈশব, শিক্ষা, এবং ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে তাঁর অবিস্মরণীয় অবদান প্রতিটি ভারতীয়র জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। ১৮৯৪ সালের ২২ মার্চ চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামে এক দরিদ্র বৈদ্য পরিবারে সূর্য সেনের জন্ম। তাঁর পিতা রাজমণি সেন এবং মাতা শশীবালা দেবী। শৈশবে সূর্য সেন অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন এবং তিনি খেলাধুলাতেও পারদর্শী ছিলেন। তিনি স্থানীয় স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং পরে চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি হন। ১৯১৪ সালে সূর্য সেন চট্টগ্রাম কলেজ থেকে বি.এ. পাস করেন। কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে প্রবল রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী হয়ে ওঠেন। তিনি তরুণ বয়সেই ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন এবং বিভিন্ন বিপ্লবী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন। বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে যোগদান:সূর্য সেন বিপ্লবীদের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী বিপ্লবী দল গঠন করেন এবং ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সশস্ত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। তাঁর দলের প্রধান লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ সরকারকে ভারত থেকে বিতাড়িত করা। ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল সূর্য সেনের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন করা হয়। এই ঘটনাটি ছিল ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সূর্য সেনের দল অস্ত্রাগার থেকে অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহ করে এবং ব্রিটিশ বাহিনীর সঙ্গে এক ভয়াবহ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এই সংঘর্ষে ব্রিটিশ বাহিনীর ভারী ক্ষতি হয় এবং সূর্য সেনের দল বিজয়ী হয়। চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের পর সূর্য সেনের ওপর ব্রিটিশ সরকারের কড়া নজর পড়ে। ১৯৩৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি ব্রিটিশ বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন। পরে তাঁর ওপর বিচার শুরু হয় এবং ১৯৩৩ সালের ১২ জানুয়ারি তাঁকে ফাঁসি দেওয়া হয়। মাস্টারদা সূর্য সেন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের এক মহান শহীদ। তাঁর নিঃস্বার্থ দেশপ্রেম এবং সাহসিকতা প্রতিটি ভারতীয়র জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁর স্মৃতি চিরকাল ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে। মাস্টারদা সূর্য সেনের জীবন এবং সংগ্রাম আমাদের শিখিয়ে দেয় যে, দেশের স্বাধীনতার জন্য যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। তাঁর নিঃস্বার্থ দেশপ্রেম এবং সাহসিকতা আমাদের চিরকাল অনুপ্রাণিত করবে।মাস্টারদা সূর্য সেন ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের এক মহান শহীদ। তাঁর নিঃস্বার্থ দেশপ্রেম এবং সাহসিকতা প্রতিটি ভারতীয়র জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁর স্মৃতি চিরকাল ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে।

![]()

More Stories
আন্তর্জাতিক অরণ্য দিবসে অরণ্য রক্ষায় শপথ নেওয়ার আহ্বান
দেশে সারের ঘাটতি মেটাতে আমদানি বাড়াল কেন্দ্র, ইউরিয়া আমদানি ৮৯ লক্ষ টন
বিসমিল্লাহ্ খাঁ: সুরের ভিতর মানবধর্মের অনন্য সেতুবন্ধন