গেরুয়া পাঞ্জাবি-সাদা ধুতিতে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, ইতিহাসের সাক্ষী ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল আজ। দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই, আন্দোলন, তীব্র বাকযুদ্ধ এবং ক্ষমতা পরিবর্তনের আবহের মধ্য দিয়ে অবশেষে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। বাংলায় এই প্রথম ভারতীয় জনতা পার্টি-র সরকার গঠিত হওয়ায় গোটা রাজ্যজুড়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে সমর্থকদের মধ্যে।বাঙালিয়ানার ঐতিহ্য বজায় রেখেই এদিন শপথ মঞ্চে হাজির হন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর পরনে ছিল গেরুয়া রঙের হাফ হাতা পাঞ্জাবি ও সাদা ধুতি। ধর্মতলার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ মঞ্চে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান সি ভি আনন্দ বোস। অনুষ্ঠান ঘিরে ছিল কড়া নিরাপত্তা এবং নজিরবিহীন আয়োজন। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়করা। এছাড়াও শিল্প, সংস্কৃতি ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে বিশেষ মাত্রা দেয়।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর এই উত্থান শুধুমাত্র একটি নির্বাচনী সাফল্য নয়, বরং দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের ফল। বিরোধী দলনেতা হিসেবে গত কয়েক বছরে তিনি রাজ্যের বিভিন্ন ইস্যুতে ধারাবাহিক আন্দোলন, পথসভা ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে সরব প্রতিবাদের মাধ্যমে নিজেকে অন্যতম প্রধান বিরোধী মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। বিশেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর মতো শক্তিশালী নেত্রীকে সরাসরি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি রাজ্যের রাজনীতিতে আলাদা জায়গা তৈরি করেন। নির্বাচনী প্রচারে বিজেপি বারবার “সুশাসন”, “আইনের শাসন”, “দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন” এবং “রাজনৈতিক হিংসা বন্ধ”-এর মতো ইস্যুকে সামনে আনে। দলের দাবি ছিল, পশ্চিমবঙ্গ ক্রমশ অরাজকতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সেই আবহেই বিশেষ করে রাজ্যের বহু হিন্দু ভোটার বিজেপির পাশে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়িয়েছেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন। তবে ভোটের অঙ্কে ধর্মীয় বিভাজনের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে রাজনৈতিক মহলে। বিশ্লেষকদের মতে, মুসলিম অধ্যুষিত বহু এলাকায় বিজেপি তুলনামূলকভাবে কম সমর্থন পেলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু ভোটের বড় অংশ তাদের দিকে যাওয়ায় রাজ্যের ক্ষমতার সমীকরণ বদলে যায়। যদিও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করিয়ে দিচ্ছেন, গণতন্ত্রে শেষ পর্যন্ত উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, প্রশাসনিক দক্ষতা ও সামাজিক সম্প্রীতিই সরকারের আসল পরীক্ষা। শপথ গ্রহণের পর শুভেন্দু অধিকারী তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে রাজ্যের সব মানুষের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাজ করার বার্তা দিয়েছেন। রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে পশ্চিমবঙ্গকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। বাংলার রাজনীতিতে এই পরিবর্তন তাই শুধুমাত্র সরকার বদলের ঘটনা নয়; বরং এক দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের অবসান এবং নতুন এক সময়ের সূচনা বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের বড় অংশ।

Loading