রাজ্য সরকারি কর্মীদের বাড়িতে স্মার্ট বিদ্যুৎ মিটার বসানোর নির্দেশ

সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ বিদ্যুৎ বণ্টন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং বণ্টন সংস্থাগুলির আর্থিক অবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে রাজ্য সরকারি কর্মীদের আবাসনে স্মার্ট বিদ্যুৎ মিটার বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ১০ জুন ২০২৬ তারিখে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্যসচিবের দপ্তর থেকে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, কেন্দ্র সরকারের রিভ্যাম্পড ডিস্ট্রিবিউশন সেক্টর স্কিম (RDSS)-এর আওতায় সারা দেশে বিদ্যুৎ খাতে সংস্কার ও বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থাগুলির আর্থিক স্বাস্থ্য মজবুত করার লক্ষ্যে স্মার্ট মিটার স্থাপনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গেও ধাপে ধাপে গৃহস্থালির বিদ্যুৎ সংযোগে স্মার্ট মিটার বসানো হবে। সরকারি নির্দেশ অনুসারে, রাজ্য সরকারের কর্মচারী, আধা-সরকারি সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা (PSU), কর্পোরেশন, সরকারি উদ্যোগ এবং যেসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন, পারিশ্রমিক বা সম্মানী রাজ্য কোষাগার থেকে প্রদান করা হয়, তাঁদের আবাসনে স্মার্ট মিটার স্থাপনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা (WBSEDCL) প্রাথমিক পর্যায়ে তাদের ৫৫৪টি কাস্টমার কেয়ার সেন্টারের (CCC) মধ্যে ১০৩টি এলাকার গ্রাহকদের জন্য স্মার্ট মিটার বসানোর কাজ শুরু করেছে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই এলাকাগুলিতে বিদ্যুৎ বণ্টনজনিত ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় প্রথম ধাপে সেগুলিকেই বেছে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে বাকি এলাকাগুলিকেও এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। নির্দেশিকায় আরও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, নতুন স্মার্ট মিটার পোস্ট-পেইড পদ্ধতিতেই চালু থাকবে এবং বর্তমানে যে বিলিং ব্যবস্থা চালু রয়েছে তা অপরিবর্তিত থাকবে। তবে মিটার স্থাপনের পর কোনও গ্রাহক চাইলে স্বেচ্ছায় প্রি-পেইড ব্যবস্থাও গ্রহণ করতে পারবেন। মুখ্যসচিবের পক্ষ থেকে সমস্ত দপ্তর, জেলা শাসক, বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে তাঁদের অধীনস্থ কর্মীদের স্মার্ট মিটার স্থাপনের বিষয়ে অবহিত করা হয় এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করা হয়।রাজ্য সরকারের মতে, স্মার্ট মিটার চালু হলে বিদ্যুতের ব্যবহার সম্পর্কে আরও স্বচ্ছ তথ্য পাওয়া যাবে, বিলিং ব্যবস্থার উন্নতি হবে এবং বিদ্যুৎ অপচয় ও বাণিজ্যিক ক্ষতি কমাতে সাহায্য করবে। ফলে বিদ্যুৎ পরিষেবার মানোন্নয়নের পাশাপাশি রাজ্যের আর্থিক বোঝাও কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Loading