সরকারি ছুটির দিনেও অফিসে ‘স্কেলিটন স্টাফ’ রাখার নির্দেশ, নবান্নের নতুন নির্দেশিকা ঘিরে জোর চর্চা

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পার্সোনেল অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিফর্মস (P&AR) দপ্তরের একটি স্মারক (Memorandum) প্রকাশের পর প্রশাসনিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের ২৫ জুন জারি হওয়া এই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষ যেহেতু নিয়মিতভাবে শনিবার, রবিবার এবং অন্যান্য সরকারি ছুটির দিনেও দাপ্তরিক কাজ করে থাকেন, তাই প্রয়োজনে তাঁদের সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিটি সেলে রোস্টার ভিত্তিতে ‘স্কেলিটন স্টাফ’ (ন্যূনতম সংখ্যক কর্মী) উপস্থিত রাখতে হবে।

নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি কাজ যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয় এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চলতে পারে, সেই উদ্দেশ্যেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে সরকারি ছুটির দিন হলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সীমিত সংখ্যক কর্মচারী ডিউটিতে থাকবেন এবং প্রয়োজনে জরুরি প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করবেন।

নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত অতিরিক্ত মুখ্যসচিবের অনুমোদনক্রমে কার্যকর করা হয়েছে। স্মারকটি বিভাগের বিভিন্ন সিনিয়র স্পেশাল সেক্রেটারি, স্পেশাল সেক্রেটারি, যুগ্মসচিব, ডেপুটি সেক্রেটারি এবং অতিরিক্ত মুখ্যসচিবের দপ্তরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে।

প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, এই নির্দেশের ফলে সরকারি ছুটির দিনেও নবান্নের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব কমবে। অন্যদিকে, কর্মচারী মহলের একটি অংশের প্রশ্ন, ছুটির দিনেও নিয়মিত রোস্টার ডিউটি চালু হলে কর্মীদের কাজের চাপ ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্যের ওপর তার কী প্রভাব পড়বে, সেটিও বিবেচনার বিষয়।

তবে সমস্ত সরকারি কর্মচারীর ছুটি বাতিলের নির্দেশ নয়। বরং শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিভিন্ন সেলে রোস্টার অনুযায়ী সীমিত সংখ্যক কর্মীকে উপস্থিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সরকারি কাজের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে এবং প্রয়োজনে উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়া যায়।

Loading