আম ও সিল্কের পর জেলার তৃতীয় পণ্যের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ পশ্চিমবঙ্গের কৃষিতে যুক্ত হলো আরও এক গৌরবময় অধ্যায়। মালদা জেলার ঐতিহ্যবাহী আশাপুরের বেগুন ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই (Geographical Indication) স্বীকৃতি লাভ করেছে। এর ফলে মালদার বিখ্যাত আম ও সিল্কের পর আশাপুরের বেগুন জেলার তৃতীয় পণ্য হিসেবে এই মর্যাদা অর্জন করল।
চেন্নাইয়ের জিআই রেজিস্ট্রি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘আশাপুর ফ্রুটস অ্যান্ড ভেজিটেবলস গ্রোয়ার্স ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’-কে এই জিআই-এর স্বত্বাধিকার প্রদান করেছে। এই স্বীকৃতির মাধ্যমে আশাপুরের বেগুনের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য, গুণমান এবং উৎপত্তিস্থল আইনগত সুরক্ষা পেল। ফলে ভবিষ্যতে অন্য কোনো অঞ্চল এই নাম ব্যবহার করে বাজারজাত করতে পারবে না, যা স্থানীয় উৎপাদকদের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
মালদার আশাপুর অঞ্চলের মাটি, জলবায়ু এবং চাষপদ্ধতির কারণে উৎপাদিত এই বেগুন তার স্বাদ, আকার, রং ও গুণগত মানের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই বিশেষ পরিচিত। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি প্রতিবেশী রাজ্যগুলিতেও এই বেগুনের চাহিদা রয়েছে।
জিআই স্বীকৃতির খবরে খুশির হাওয়া আশাপুরের কৃষক ও ব্যবসায়ী মহলে। তাঁদের মতে, এই স্বীকৃতির ফলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে আশাপুরের বেগুনের পরিচিতি আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে নকল পণ্যের প্রবণতা কমবে এবং প্রকৃত উৎপাদকরা তাঁদের পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, জিআই স্বীকৃতি শুধু একটি সম্মান নয়; এটি স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। ব্র্যান্ড ভ্যালু বৃদ্ধি, উন্নত বিপণন ব্যবস্থা, রপ্তানির সম্ভাবনা এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করতে এই স্বীকৃতি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে।
মালদার কৃষিজ ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত এই নতুন অর্জন নিঃসন্দেহে জেলার কৃষকদের জন্য এক বড় প্রাপ্তি। আম, সিল্কের পর আশাপুরের বেগুনের এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাংলার কৃষি ও কৃষিপণ্যের বৈচিত্র্য এবং উৎকর্ষকে আরও একবার বিশ্বদরবারে তুলে ধরল।

![]()

More Stories
আধ্যাত্মিক চেতনার প্রাণপুরুষ স্বামী বিবেকানন্দ: তিরোধান দিবসে শ্রদ্ধার্ঘ্য
WBCSSC-র নতুন চেয়ারম্যান দুষ্মন্ত নারিয়ালা, স্বচ্ছ নিয়োগে জোর রাজ্য সরকারের
আরজি কর কাণ্ড: ভিসেরা নমুনা অদলবদলের অভিযোগে শিয়ালদা আদালতের দ্বারস্থ পরিবার