জাতীয় পতাকার রূপকার পিঙ্গালি ভেঙ্কাইয়া: এক বিস্মৃত দেশপ্রেমিকের স্মৃতিচারণ

প্রয়াণ দিবসে বিশেষ প্রতিবেদন


সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ ভারতের জাতীয় পতাকা শুধু একটি কাপড়ের টুকরো নয়; এটি দেশের স্বাধীনতা, আত্মত্যাগ, ঐক্য এবং আত্মমর্যাদার প্রতীক। সেই তেরঙ্গা পতাকার নকশা প্রণয়নের পেছনে যাঁর অসামান্য অবদান, তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামী পিঙ্গালি ভেঙ্কাইয়া। তাঁর প্রয়াণ দিবসে দেশ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে এই মহান দেশপ্রেমিককে, যাঁর সৃষ্টিই আজ প্রতিটি ভারতীয়ের জাতীয় গর্বের প্রতীক।

পিঙ্গালি ভেঙ্কাইয়ার জন্ম ১৮৭৬ সালের ২ আগস্ট, বর্তমান অন্ধ্রপ্রদেশের কৃষ্ণা জেলার ভাটলাপেনুমারু গ্রামে। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ভাষা, কৃষিবিজ্ঞান ও ভূতত্ত্বের প্রতি গভীর আগ্রহী ছিলেন। বহুভাষাবিদ ভেঙ্কাইয়া ইংরেজি, উর্দু, সংস্কৃতসহ একাধিক ভাষায় পারদর্শী ছিলেন। তিনি ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতেও কর্মরত ছিলেন এবং পরবর্তীকালে দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন।

জাতীয় পতাকার একটি স্বতন্ত্র নকশা তৈরির প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে তিনি দীর্ঘদিন গবেষণা ও অধ্যয়ন করেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পতাকার ইতিহাস ও বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে তিনি ভারতের জন্য একটি উপযুক্ত জাতীয় পতাকার নকশা প্রস্তুত করেন। ১৯২১ সালে বিজয়ওয়াড়ায় অনুষ্ঠিত ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে তিনি তাঁর নকশা পিঙ্গালি ভেঙ্কাইয়া মহাত্মা মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী-র হাতে তুলে দেন। পরবর্তীকালে বিভিন্ন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সেই নকশাই ভারতের জাতীয় পতাকার ভিত্তি হয়ে ওঠে।

স্বাধীনতার প্রাক্কালে ১৯৪৭ সালের ২২ জুলাই ভারতের জাতীয় পতাকা গৃহীত হওয়া-এর মাধ্যমে গণপরিষদ ভারতের বর্তমান তেরঙ্গা জাতীয় পতাকাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে। গেরুয়া, সাদা ও সবুজ—এই তিন রঙের মাঝখানে গাঢ় নীল রঙের ২৪টি আরাযুক্ত অশোকচক্র সংযোজিত হয়, যা সত্য, ন্যায়, অগ্রগতি ও অবিরাম গতির প্রতীক।

দেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে এত গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকা সত্ত্বেও পিঙ্গালি ভেঙ্কাইয়া জীবনের শেষ পর্বে প্রায় বিস্মৃতই ছিলেন। ১৯৬৩ সালের ৪ জুলাই তাঁর মৃত্যু হয়। পরবর্তীকালে তাঁর অবদান নতুন করে আলোচনায় আসে এবং বিভিন্ন স্তরে তাঁকে যথাযোগ্য সম্মান জানানো শুরু হয়।

আজ তাঁর প্রয়াণ দিবসে জাতি শুধু জাতীয় পতাকার রূপকারকেই নয়, এক নিষ্ঠাবান স্বাধীনতা সংগ্রামী, গবেষক এবং দূরদর্শী দেশপ্রেমিককেও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে। তেরঙ্গা যখন দেশের প্রতিটি প্রান্তে গর্বের সঙ্গে উড়ে, তখন তার প্রতিটি রঙে এবং প্রতিটি স্পন্দনে জড়িয়ে থাকে পিঙ্গালি ভেঙ্কাইয়ার অবিস্মরণীয় অবদান।

দেশপ্রেমের এই অমূল্য উত্তরাধিকার আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াই হবে তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধার্ঘ্য।

Loading