৯ আগস্ট: ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের ৮৪তম বর্ষপূর্তি ও বিশ্ব আদিবাসী দিবস

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: আজ ৯ আগস্ট। একদিকে ঐতিহাসিক ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের ৮৪তম বর্ষপূর্তি, অন্যদিকে আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব আদিবাসী দিবস। ইতিহাস, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং দেশের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর ক্ষেত্রে দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

১৯৪২ সালের এই দিনেই ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছিল গোটা দেশ। মহাত্মা গান্ধীর আহ্বানে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল ঐতিহাসিক স্লোগান—‘করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে’। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীনতার সূর্য ছিনিয়ে আনতে সেদিন দেশের সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন। ছাত্র, যুবক, কৃষক, শ্রমিক-সহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ এই আন্দোলনে অংশ নেন। ব্রিটিশ সরকারের দমন-পীড়ন, গ্রেফতার ও নির্যাতন সত্ত্বেও আন্দোলনের আগুন ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

ঐতিহাসিক ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। স্বাধীনতার লক্ষ্যে অসংখ্য মানুষ কারাবরণ করেন, নির্যাতন সহ্য করেন এবং বহু বীর সন্তান আত্মবলিদান দেন। তাঁদের আত্মত্যাগের লক্ষ্য ছিল আগামী প্রজন্মের জন্য একটি স্বাধীন দেশ গড়ে তোলা।

অন্যদিকে, আজ বিশ্ব আদিবাসী দিবস। এই বিশেষ দিনে ভারতের আদিবাসী সমাজের মানুষদের প্রতি জানানো হচ্ছে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা। মা ভারতীর সঙ্গে যাঁদের শিকড়ের সম্পর্ক, যাঁদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ভাষা ও জীবনধারা দেশের পরিচয় ও বৈচিত্র্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে, সেই সমস্ত আদিবাসী সম্প্রদায় ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

আদিবাসী সমাজের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। আদিবাসী সমাজের সংস্কৃতি, ভাষা, লোকজ ঐতিহ্য ও জীবনধারাকে দেশের অমূল্য সম্পদ হিসেবে তুলে ধরে তাঁদের সার্বিক উন্নয়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

স্বাধীনতা সংগ্রামে দেশের বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের অবদানও ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিটিশবিরোধী একাধিক আন্দোলনে আদিবাসী সমাজের বহু মানুষ সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করেছেন এবং আত্মবলিদান দিয়েছেন। তাঁদের সংগ্রাম ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাসকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

৯ আগস্ট তাই একইসঙ্গে স্মরণ, শ্রদ্ধা ও সংকল্পের দিন। একদিকে স্বাধীনতার জন্য আত্মবলিদান দেওয়া অমর বীরদের স্মরণ, অন্যদিকে দেশের আদিবাসী সমাজের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অধিকারের প্রতি সম্মান জানানোর দিন। তাঁদের আত্মত্যাগ ও ঐতিহ্যকে সামনে রেখে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের ভারতকে আরও শক্তিশালী করার বার্তাই আজকের দিনের অন্যতম তাৎপর্য।

Loading