সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: ভারত ও নেপালের দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্কের ঐতিহ্য আরও একবার সামনে এল। নেপালের রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পাওদেল ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরজ শেঠকে নেপাল সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক ‘জেনারেল’ পদমর্যাদা প্রদান করেছেন। সোমবার নেপালের রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন শীতল নিবাসে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই সম্মান প্রদান করা হয়।
নেপাল সেনাবাহিনীর সমপদমর্যাদার কর্মকর্তা জেনারেল অশোক রাজ সিগদেলের আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে রবিবার নেপালে পৌঁছান জেনারেল শেঠ। পরদিনই রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁকে নেপাল সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক জেনারেল পদে ভূষিত করা হয়।
অনুষ্ঠানে নেপালের উপরাষ্ট্রপতি রাম সহায় প্রসাদ যাদব, পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল, নেপালে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তবসহ নেপাল সরকার ও সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।
ভারত ও নেপালের মধ্যে এই সম্মানসূচক সামরিক পদমর্যাদা প্রদানের প্রথা নতুন নয়। ১৯৫০ সাল থেকে চলে আসা দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য অনুযায়ী, দুই দেশের সেনাপ্রধানকে পরস্পরের সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক ‘জেনারেল’ পদমর্যাদা প্রদান করা হয়ে থাকে। এর মাধ্যমে দুই দেশের সেনাবাহিনীর ঐতিহাসিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন ঘটে।
সফরকালে নেপাল সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল অশোক রাজ সিগদেলের সঙ্গেও বৈঠক করেন জেনারেল ধীরজ শেঠ। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং ভারত-নেপাল সামরিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।
ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেনারেল শেঠের নেপাল সফর দুই দেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার বার্তা বহন করছে। অভিন্ন মূল্যবোধ, পারস্পরিক আস্থা এবং দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী যোগাযোগ ও সহযোগিতাই এই সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি।
এছাড়াও নেপালে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তবের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতীয় সেনাপ্রধান। সেখানে নয়াদিল্লি ও কাঠমান্ডুর সামগ্রিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
সফরের অংশ হিসেবে নেপাল সেনাবাহিনীর হাতে সামরিক ও চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু সরঞ্জামও তুলে দেন জেনারেল শেঠ। নেপাল সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভ্যর্থনা জানানো হয়। সেখানে তিনি একটি চারা রোপণ করেন এবং সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিক কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন।
নেপাল সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, ভারতীয় সেনাপ্রধানের এই সফর দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর করবে। দীর্ঘদিনের সামরিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এই সফর ভারত-নেপাল প্রতিরক্ষা সম্পর্কের গুরুত্বকেও নতুন করে তুলে ধরল।

![]()

More Stories
বিজেপির নতুন কেন্দ্রীয় পদাধিকারীদের তালিকা প্রকাশ, জাতীয় সহ-সভাপতি হলেন পশ্চিমবঙ্গের ডা. মধুচন্দ কর
প্রয়াণ দিবসে স্মরণে অটল বিহারী বাজপেয়ী
শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসের তিরোধান দিবসে শ্রদ্ধার্ঘ্য অমিত শাহের