সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: সাধারণ মানুষের অভিযোগ সরাসরি শুনে দ্রুততার সঙ্গে তার নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। অনলাইন ব্যবস্থায় অভিযোগ জানানোর সুযোগের পাশাপাশি এবার থেকে রাজ্যের বিভিন্ন স্তরের ফিল্ড-লেভেল সরকারি আধিকারিকরা নির্দিষ্ট দিনে সরাসরি সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের অভিযোগ ও সমস্যার কথা শুনবেন। এই মর্মে গত ২১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের Personnel & Administrative Reforms Department-এর পক্ষ থেকে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। নির্দেশিকার নম্বর 36-ACS/PAR/2026 এবং মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল-এর স্বাক্ষরিত এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর করার কথা জানানো হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতি মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের দফতর সাধারণ মানুষের জন্য খোলা থাকবে এবং এই সময়ে কোনও পূর্বানুমতি বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই নাগরিকরা সরাসরি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের অভিযোগ জানাতে পারবেন। শুধু জেলা বা ব্লক প্রশাসন নয়, এই ব্যবস্থার আওতায় রাখা হয়েছে ডিভিশনাল কমিশনার, জেলা শাসক, মিউনিসিপ্যাল কমিশনার, ডেভেলপমেন্ট অথরিটির CEO, অতিরিক্ত জেলা শাসক, মহকুমাশাসক, ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার এবং আরবান লোকাল বডির এক্সিকিউটিভ অফিসারদের। পুলিশ প্রশাসনের ক্ষেত্রেও নির্দেশ কার্যকর হবে ডিজি, অতিরিক্ত ডিজি, আইজি, পুলিশ কমিশনার, ডেপুটি আইজি, পুলিশ সুপার, ডেপুটি কমিশনার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সাব-ডিভিশনাল পুলিশ অফিসার এবং থানার অফিসার-ইন-চার্জদের ক্ষেত্রে। একইভাবে বন দফতরের PCCF, Additional PCCF, COF, Divisional Forest Officer, Additional DFO, Ranger-সহ বিভিন্ন স্তরের আধিকারিক এবং অন্যান্য সরকারি দফতরের ডিরেক্টরেট, জেলা, মহকুমা ও ব্লক স্তরে কর্মরত আধিকারিকদেরও এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সাধারণ মানুষের সঙ্গে সাক্ষাতের এই নির্দিষ্ট সময়সূচি সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরে স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করতে হবে। যতটা সম্ভব ওই সময়ের মধ্যে আধিকারিকদের কোনও সরকারি বৈঠক, সফর বা অন্য কোনও কর্মসূচি রাখা যাবে না, যাতে তাঁরা নির্ধারিত সময়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগ শোনার জন্য দফতরে উপস্থিত থাকতে পারেন। পাশাপাশি, সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ করতে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের সরকারি ই-মেল ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর দফতরের সহজে দৃশ্যমান স্থানে প্রকাশ করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট অফিস বা দফতরের সরকারি ওয়েবসাইটেও তা প্রকাশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু অভিযোগ শোনাই নয়, সরাসরি সাক্ষাতের সময় পাওয়া অভিযোগ এবং তার ভিত্তিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার তথ্য নথিভুক্ত করার জন্য ‘আপনার সরকার আপনার পাশে’ (ASAP) পোর্টালকে আরও উন্নত করার কথাও নির্দেশিকায় বলা হয়েছে। পরবর্তীতে এই অভিযোগ ও তার নিষ্পত্তির বিষয়গুলি ডিভিশনাল কমিশনার, জেলা শাসক এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা পর্যালোচনা করতে পারবেন। তবে নতুন এই ব্যবস্থা বর্তমানে চালু থাকা অনলাইন grievance-redressal ব্যবস্থার বিকল্প নয় বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে। বরং অনলাইন ব্যবস্থার পরিপূরক হিসেবেই সাধারণ মানুষের জন্য সরাসরি আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করার এই সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। বিশেষ করে যাঁদের ডিজিটাল পরিষেবায় সহজে প্রবেশাধিকার নেই, তাঁদের জন্য এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সাধারণ মানুষের অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি, সরকারি পরিষেবায় স্বচ্ছতা এবং আধিকারিকদের জবাবদিহিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এই ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে। নির্দেশিকায় সমস্ত দফতর, জেলা শাসক, মিউনিসিপ্যাল কমিশনার এবং পুলিশ কমিশনারদের এই নির্দেশের ব্যাপক প্রচার এবং কঠোরভাবে তা কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি, নির্দেশটি বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা Personnel & Administrative Reforms Department-এর পক্ষ থেকে নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে। ফলে এবার থেকে সরকারি পরিষেবা নিয়ে কোনও সমস্যা বা অভিযোগ থাকলে সাধারণ মানুষ সপ্তাহের নির্দিষ্ট মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের সঙ্গে সরাসরি দেখা করে নিজের সমস্যার কথা জানাতে পারবেন।


![]()

More Stories
বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রস্তুত বিশেষ বাহিনী ‘অর্জুন’, ১ সেপ্টেম্বর উদ্বোধন
সাংবাদিকদের জন্য বড় ঘোষণা, ১ সেপ্টেম্বর শুরু হচ্ছে ‘সাংবাদিক পেনশন যোজনা ২০২৬’ ও স্বাস্থ্যবীমার আওতা
পশ্চিমবঙ্গে আবাস যোজনার সমীক্ষা শেষের পথে, শীঘ্রই পুরোদমে শুরু VBG রামজী প্রকল্প