ভয় দেখাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় রেমাল! তবে কি তছনছ করতে চলেছে উপকূল?

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ : পরিসংখ্যানের দিকে নজর রাখলে দেখা যাবে, অন্ততপক্ষে ১৫ বছর আগে মে মাসেই বাংলা তছনছ করেছিল ঘূর্ণিঝড় আয়লা। এরপর টানা ১০ বছর ব্রেক পায় বাংলা। দফায় দফায় ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ে কেবলমাত্র মে মাসেই। কখনও আয়লা, কখনও আমফান, কখনও ইয়াস। তছনছ করে দিয়ে যায় গতিবেগ। এবারও কি প্রবল গতি বেগে বঙ্গে আছড়ে পড়বে রেমাল ( Remal )? বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ইতিমধ্যেই রেমাল নিয়ে চর্চা তুঙ্গে। মে মাসেই কেন বারবার ধেয়ে আসে ঘূর্ণিঝড়? বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রের জলের উষ্ণতা বৃদ্ধি এর অন্যতম বড় কারণ। মে মাসে ঘূর্ণিঝড়ের প্রবণতার জন্য বিশেষজ্ঞরা, সাইক্লোন সিজন এবং জলীয় বাষ্প যুক্ত পুবালী হাওয়াকেও অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন। এবার ২৩ মে, দক্ষিণ পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ বলয় তৈরির ইঙ্গিত মিলেছে উপগ্রহ চিত্রে। যেহেতু আন্দামান সাগরে ১৯ মে মৌসুমী বায়ু প্রচুর জলীয় বাষ্প নিয়ে প্রবেশ করবে, অতএব সেখান থেকে এবং সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে পর্যাপ্ত জলীয় বাষ্প সংগ্রহ করে এই নিম্নচাপ বলয় তার শক্তি বৃদ্ধি করতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে। যেহেতু এখনও নিম্নচাপ তৈরিই হয়নি, তাই রেমাল আদৌ তৈরি হবে কি না, তা বলা যাচ্ছে না। ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলে এটির নামকরণ হবে রেমাল। তবে সর্বশেষ পর্যবেক্ষণে, এটি কতটা শক্তি বৃদ্ধি করে তার ওপর নজর রাখা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় নিয়ে কোনো আগাম পূর্বাভাস দেয়নি দিল্লির মৌসম ভবন।তবে আপাতত দিনকয়েক গরমের সঙ্গেই গেরস্থালী করতে হবে বঙ্গবাসীকে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, আগামী দু’দিন তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে। শনিবারও দক্ষিণবঙ্গের চার জেলায় তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। এই জেলাগুলি হল, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া এবং বীরভূম।চলতি সপ্তাহেই পশ্চিমাঞ্চলের একাধিক জেলার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যেতে পারে। কলকাতার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও বৃষ্টির সম্ভাবনা এখন নেই। বজায় থাকবে গরম ও অস্বস্তির দাপট। সোমবার বৃষ্টি হতে পারে কলকাতায়। রবিবার থেকে বৃষ্টি বাড়বে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে। সোম ও মঙ্গলবার বৃষ্টির সম্ভবনা রয়েছে দক্ষিণবঙ্গে। হাওয়া অফিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৩ মে নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার পর ২৪ মে তা শক্তি বৃদ্ধি করে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে। পরবর্তীতে আরও শক্তি বৃদ্ধি করার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া এই সিস্টেম ধীরে ধীরে উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে এগোতে পারে। আর এমনটা যদি হয় তাহলে বাংলার বুকে খুব একটা আঁচড় ফেলতে পারবে না এই ঘূর্ণিঝড়।

Loading