আইআইটি স্নাতক যিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে জাতির সেবা করার জন্য বেছে নিয়েছেন

সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ মেজর রাধিকা  সেন ভারতের  হিমাচল প্রদেশের কাংড়া জেলার বারোহা গ্রামে 1993 সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হিমাচল প্রদেশের সুন্দরনগরের সেন্ট মেরি হাই স্কুলে তার স্কুলের পড়াশোনা শেষ করেন ।  বিজ্ঞানের প্রতি দৃঢ় আগ্রহ দেখিয়ে, সেন পাঞ্জাব ইউনিভার্সিটি , চণ্ডীগড় থেকে বায়োটেকনোলজিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (IIT) বোম্বেতে যোগ দেন , যেখানে তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগদানের আগে তার স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে কাজ করছিলেন। সেবার আবেগে অনুপ্রাণিত হয়ে, উচ্চ বেতনের বেসরকারী চাকরি বেছে নেওয়ার পরিবর্তে, তিনি জাতির সেবা করা বেছে নেন এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। রাধিকা সবসময় ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে দেশের সেবা করার স্বপ্ন দেখতেন। তিনি আট বছর আগে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন এবং শান্তিরক্ষায় তার অবদানের জন্য মর্যাদাপূর্ণ জাতিসংঘ জেন্ডার অ্যাডভোকেট পুরস্কার পেয়ে দেশকে গর্বিত করেছিলেন। মেজর রাধিকা সেন জাতিসংঘের জেন্ডার অ্যাডভোকেট অ্যাওয়ার্ডে সম্মানিত হয়েছেন, এই স্বীকৃতি অর্জনকারী দ্বিতীয় ভারতীয় শান্তিরক্ষী হয়ে উঠেছেন। এখন মেজর পদে কর্মরত রাধিকা ভারতীয় শান্তি রক্ষী বাহিনীর হয়ে **কঙ্গোতে আছেন তাঁর বাহিনী নিয়ে। তাঁর কাজে অভিভূত রাষ্ট্রসঙ্ঘ ভূষিত করলো “জেন্ডার এডভোকেট” পুরস্কারে। তাঁর হাতে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার তুলে দেন স্বয়ং রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব। গৃহযুদ্ধে পীড়িত কঙ্গোতে শুধু শান্তি ফেরানোই নয়, সেদেশের মহিলাদের মন থেকে আতঙ্ক দূর করে তাদের স্বাভাবিক জীবনে আনা। শিশুদের শিক্ষা, তরুণ প্রজন্মের জন্য রোজগারের উপায় বার করা। এক কথায় দুনিয়ার সামনে দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন তিনি। তাঁর এই অসাধারণ কাজের জন্য, বিশ্বের দরবারে মাথা উচু হয়েছে ভারতের।

**কঙ্গো– প্রজাতন্ত্র হচ্ছে মধ্য আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত একটি দেশ। দেশটি কঙ্গো-ব্রাজাভিল, কঙ্গো রিপাবলিক বা কেবল কঙ্গো নামেও পরিচিত। দেশটির পশ্চিমে গ্যাবন, উত্তর-পশ্চিমে ক্যামেরুন এবং উত্তর-পূর্বে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, দক্ষিণ-পূর্বে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, দক্ষিণে অ্যাঙ্গোলার ছিটমহল ক্যাবিন্দা এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগর অবস্থিত। দীর্ঘদিন ফ্রান্সের উপনিবেশ থাকায় ফরাসি হল কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের সরকারি ভাষা।

এই অঞ্চলটি কমপক্ষে ৩,০০০ বছর আগে বান্টু-ভাষী উপজাতিদের দ্বারা প্রভাবিত ছিল। তারা কঙ্গো নদীর অববাহিকার দিকে অগ্রসর হয়ে বাণিজ্য সংযোগ তৈরি করেছিল। কঙ্গো পূর্বে নিরক্ষীয় আফ্রিকার ফরাসি উপনিবেশের অংশ ছিল। কঙ্গো প্রজাতন্ত্র ১৯৫৮ সালের ২৮ নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৬০ সালে ফ্রান্স থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। এটি ১৯৬৯ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত একটি মার্কসবাদী-লেনিনবাদী কমিউনিস্ট রাষ্ট্র ছিল। দেশটি তখন গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো নামে পরিচিত ছিল। ১৯৯২ সাল থেকে সার্বভৌম রাষ্ট্রটিতে বহুদলীয় নির্বাচন হয়েছে। যদিও ১৯৯৭ সালের কঙ্গো গৃহযুদ্ধে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি ডেনিস সাসও এনগুয়েসো ১৯৭৯ সালে প্রথম ক্ষমতায় আরোহণ করেন। এর পর থেকে তিনি চার দশকেরও বেশি সময় ধরে এখনও দেশটি শাসন করে আসছেন।

কঙ্গো প্রজাতন্ত্র আফ্রিকান ইউনিয়ন, জাতিসংঘ, লা ফ্রাঙ্কোফোনি, মধ্য আফ্রিকান রাজ্যগুলোর অর্থনৈতিক সম্প্রদায় এবং জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের সদস্য। এটি গিনি উপসাগরের চতুর্থ বৃহত্তম তেল উৎপাদক দেশ হয়ে উঠেছে। কিছু এলাকায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং দেশব্যাপী তেলের রাজস্বের অসম বন্টন সত্ত্বেও এই সুবিধা দেশটিকে কিছুটা সমৃদ্ধি প্রদান করেছে। কঙ্গোর অর্থনীতি তেল খাতের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তাই ২০১৫-এর পরে তেলের দাম কমে যাওয়ার পর থেকে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যথেষ্ট মন্থর হয়েছে। এই দেশের জনসংখ্যা প্রায় ৫২ লক্ষ। এর মধ্যে ৮৮.৫% মানুষ খ্রিস্টান ধর্ম পালন করে।

Loading