সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ শিবাজী, পুরো নাম শিবাজী শাহজী ভোঁসলে, ছিলেন ভারতের ইতিহাসের অন্যতম মহান এবং কিংবদন্তি শাসক। তিনি মারাঠা সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা এবং তার শাসনামলে ভারতে একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়। শিবাজী ১৬৩০ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন তার পিতা ছিলেন শাহজী ভোঁসলে ও মাতা জীজাবাঈ। শিবাজির পিতা শাহজী বিজাপুরের সুলতানের অধীনে কার্যভার গ্রহণ করায়, শিশুপুত্র শিবাজীসহ জীজাবাঈ দাদাজী কোণ্ডদেব নামে এক বিচক্ষণ ব্রাহ্মণের তত্ত্বাবধানে পুনায় থেকে যান। ধর্মপরায়ণ মায়ের প্রভাব শিবাজীর জীবনে গভীর রেখাপাত করেছিল। মায়ের কাছে রামায়ণ ও মহাভারতের কাহিনী শুনে শিশুকালেই শিবাজীর মনে বীরত্ব ও দেশপ্রেমের সঞ্চার হয়েছিল। মায়ের মতো কোণ্ডদেবও শিবাজীর চরিত্র গঠনে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। ১৬৮০ সালে মারা যান। তিনি ১৬৭৪ সালের ৬ জুন মারাঠা সাম্রাজ্যের রাজা ‘ছত্রপতি‘ হিসেবে মুকুট ধারণ করেন।
তিনি ছিলেন রাজা শিবাজী এবং তাঁর অসাধারণ নেতৃত্ব, বীরত্ব, যুদ্ধ কৌশল এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় দক্ষতা তাকে ভারতের ইতিহাসে অমর করে রেখেছে।
শিবাজীর কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক: 1.মারাঠা সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা: শিবাজী তার পিতার উত্তরাধিকারী হিসেবে মারাঠা রাজ্যকে শক্তিশালী করেছিলেন এবং বহু যুদ্ধের মাধ্যমে দক্ষিণ ভারতের অধিকাংশ অংশে শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি `রাজগড়`, `শিবনারায়ণ`, `सिंहगढ़` সহ একাধিক দুর্গে বসবাস করেছেন এবং সেগুলি সেনাপতিদের মাধ্যমে পরিচালিত করেছিলেন।
2. স্বাধীনতা সংগ্রাম: শিবাজী ছিলেন স্বাধীনতার একজন কঠোর প্রচারক এবং তিনি মুঘল শাসকদের বিরুদ্ধে সফলভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। তার নেতৃত্বে মারাঠা বাহিনী একাধিক যুদ্ধে জয়লাভ করেছে, যার মধ্যে `পানিপত যুদ্ধে` তার বিশাল ভূমিকা ছিল।
3. নতুন শাসনব্যবস্থা: শিবাজী প্রশাসনে ন্যায়, সুশাসন এবং ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে ছিলেন। তিনি বিভিন্ন ধর্মের প্রতি সহিষ্ণুতা দেখিয়েছিলেন এবং একাধিক ন্যায্য আইন প্রণয়ন করেছিলেন।
4. নৌবাহিনী প্রতিষ্ঠা: শিবাজী সমুদ্রপথের মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিলেন এবং মারাঠা নৌবাহিনী গঠন করেছিলেন, যা ভারতের সমুদ্র রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
5. অসাধারণ কৌশলবিদ: তার যুদ্ধ কৌশল এবং স্ট্রাটেজি অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল। তিনি ছোট বাহিনীর মাধ্যমে বৃহৎ বাহিনীকে পরাস্ত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। শিবাজীকে স্মরণ করা হয় তার সাহস, দেশপ্রেম এবং ন্যায়পরায়ণতার জন্য। তার অবদান ভারতের ইতিহাসে চিরকাল স্মরণীয় থাকবে।
শিবাজী হিন্দাভী স্বরাজ্যের (স্বাধীনতা) মতবাদকে সমর্থন দান করেন। তিনি মুুুঘল ও মুসলমানদের ওপর গুপ্ত হামলা করে মারাঠা শাসন পুণঃপ্রতিষ্ঠা করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। তিনি তার সুশৃঙ্খল সামরিক বাহিনী এবং সুগঠিত শাসন কাঠামোর মাধ্যমে একটি দক্ষ শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি একজন কুশলী সামরিক কৌশলবিদ ছিলেন এবং গেরিলা যুদ্ধের ধারণার সূচনা করেন।
শিবাজী ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। সামান্য এক জায়গিরদারের অবহেলিত পুত্র শিবাজী নিজের প্রতিভাবলে স্বাধীন হিন্দু রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি শতধা বিভক্ত ও পারস্পরিক গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব-এ লিপ্ত মারাঠাদের জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ করে এক শক্তিশালী ঐক্যবদ্ধ জাতিতে পরিণত করেছিলেন। তার শাসননীতির লক্ষ্য ছিল ন্যায়পরায়ণতা ও উদারতা। বিখ্যাত ইতিহাসবিদ যদুনাথ সরকারের মতে–শিবাজী যে শুধুই মারাঠা জাতির স্রষ্টা ছিলেন এমন নয়, তিনি ছিলেন মধ্যযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিভাবান জাতীয় স্রষ্টা।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার শিবাজী উৎসব কবিতায় বলেছিলেন: মারাঠির সাথে আজি, হে বাঙালি, এক কন্ঠে বলো
‘জয়তু শিবাজি’।
মারাঠির সাথে আজি, হে বাঙালি, এক সঙ্গে চলো
মহোৎসবে সাজি।
আজি এক সভাতলে ভারতের পশ্চিম-পুরব
দক্ষিণে ও বামে
একত্রে করুক ভোগ একসাথে একটি গৌরব
এক পুণ্য নামে॥
![]()

More Stories
রবি শস্য চাষে রেকর্ড বৃদ্ধি: ৬৭৬ লক্ষ হেক্টর ছাড়াল আবাদ, গমে ৩৩৫ লক্ষ হেক্টর
বৈষ্ণোদেবী দর্শনে এসে আটকে পড়া যাত্রীদের জন্য কাটরা–শ্রীনগর রুটে বিশেষ ট্রেন চালাবে রেলমন্ত্রক
লোকসভায় বিশৃঙ্খলা: বাজেট অধিবেশনের বাকি সময়ের জন্য আট বিরোধী সাংসদ সাসপেন্ড