February 5, 2026

হানিমুনে গিয়ে স্বামীর রহস্যময় মৃত্যু, স্ত্রী ও ভাড়া করা খুনিরা গ্রেপ্তার — চাঞ্চল্যকর ঘটনা মেঘালয়ে

সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ মেঘালয়ের সোহরা অঞ্চলে হানিমুনে গিয়ে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের পর্যটক রাজা রঘুবংশী-র রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সোমবার সকালে মেঘালয়ের ডিজিপি আই নংরাং জানান, তদন্তে উঠে এসেছে স্ত্রীরই ভাড়া করা খুনিরা এই হত্যা করে।

ঘটনার জট খুলতে শুরু করে যখন রাজার স্ত্রী সোনম উত্তরপ্রদেশের গাজিপুরে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তার আগে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর তৎপরতায় মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর ও উত্তরপ্রদেশে রাতে হানা দিয়ে তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রাজা ও সোনম ১১ মে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর ২০ মে তাঁরা হানিমুনে মেঘালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। ২২ মে তাঁরা একটি স্কুটার ভাড়া করে মাওলাখিয়াত গ্রামে পৌঁছন। পরদিন ২৩ মে তাঁদের সোহরার নংরিয়াট থেকে ৩০০০ ধাপ উপরে ওঠার সময় তিন অজ্ঞাত পুরুষের সঙ্গে দেখা যায় বলে জানান স্থানীয় পর্যটন গাইড আলবার্ট পেডে

আলবার্ট জানান, তিনি আগের দিন এই দম্পতিকে বিখ্যাত লিভিং রুটস ব্রিজ দেখানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁরা অন্য গাইড নিয়েছিলেন। ২৩ মে সকাল ১০টা নাগাদ তিনি তাঁদের আবার দেখতে পান, তখন দম্পতির সঙ্গে তিন হিন্দিভাষী পুরুষ ছিলেন — যা থেকে অনুমান করা হচ্ছে, তারা স্থানীয় ছিল না।

দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর ২ জুন রাজার দেহ ওয়েইসাডং জলপ্রপাতের কাছে একটি খাদে পাওয়া যায়। দেহ থেকে সোনা গয়না (আঙটি ও গলার হার) নিখোঁজ ছিল, যা হত্যার সন্দেহ আরও জোরালো করে।

পরদিন সেই এলাকার কাছেই পাওয়া যায় রক্তমাখা একটি মাচেটি (ছুরি জাতীয় অস্ত্র)। আরও দুই দিন পর মাওকমা গ্রামে একটি বৃষ্টির কোট উদ্ধার হয়, যা দম্পতির ব্যবহার করা কোটের সঙ্গে মেলে।

২৪ মে তাঁদের স্কুটারটি শিলং-সোহরা রোডের ধারে একটি ক্যাফের সামনে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। তখন থেকেই দম্পতির খোঁজে শুরু হয় ব্যাপক তল্লাশি।

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার তদন্তে গঠন করা হয়েছে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। এই দলের নেতৃত্বে রয়েছেন একজন পুলিশ সুপার (SP), সঙ্গে রয়েছেন চারজন ডিএসপি।

ডিজিপি আই নংরাং জানান, ধৃতদের জেরা করে জানা গেছে — সোনম নিজেই নিজের স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা করে এবং তিনজন ভাড়াটে খুনিকে সেই কাজে নিযুক্ত করে।

Loading