সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় সামাজিকভাবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াল নির্বাচন কমিশন। তৃতীয়লিঙ্গ, যৌনকর্মী ও তাঁদের সন্তানদের ভোটাধিকার যাতে কোনওভাবে বিঘ্নিত না হয়, সে লক্ষ্যে বিশেষ অভিযান শুরুর ঘোষণা করেছে কমিশন। Election Commission of India–এর নির্দেশনার প্রেক্ষিতে রাজ্যজুড়ে এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হবে।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক Manoj Kumar Agarwal জানিয়েছেন, এই গোষ্ঠীর ভোটাধিকার কোনওভাবেই ক্ষুণ্ণ হতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে আইন মোতাবেক বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করা হবে বলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন। কমিশনের মতে, গণতন্ত্র তখনই অর্থবহ হয় যখন প্রতিটি নাগরিক, পরিচয় নির্বিশেষে, স্বাধীনভাবে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
সোনাগাছিতে ৭ হাজার ভোটার, নেই কার্ড—পরিচয় জটিলতায় সমস্যার পাহাড়
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, Sonagachi–তে প্রায় ৭ হাজার সম্ভাব্য ভোটার রয়েছেন। কিন্তু এদের অনেকেরই ভোটার কার্ড নেই, কিংবা কার্ডে পিতৃপরিচয়, গোত্র বা পরিবারগত তথ্য না থাকার কারণে তাঁরা বারবার পরিচয়–সংক্রান্ত জটিলতায় পড়ছেন। নির্বাচনের আগে এই প্রশাসনিক ফাঁক ভোটাধিকার প্রয়োগের পথে বড় বাধা তৈরি করছে।
এই সমস্যাগুলি তুলে ধরতে সোমবার যৌনকর্মীদের একটি সংগঠনের প্রতিনিধিদল মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে বৈঠক করেন। আলোচনায় তাঁরা ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি, পরিচয় নথি সংশোধন, পিতৃপরিচয়হীনতার কারণে ফর্ম পূরণের সমস্যা এবং সচেতনতা অভিযানে ঘাটতির বিষয়গুলি বিশদে জানান।
বৈঠক শেষে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জানান, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে দ্রুত “বিশেষ নিবন্ধন ও সংশোধন অভিযান” শুরু করা হবে। সোনাগাছির প্রতিটি ওয়ার্ড, গলি ও মহল্লায় বুথ–পর্যায়ের আধিকারিক (BLO) এবং সংশ্লিষ্ট বিএলওদের নিয়ে বিশেষ ক্যাম্প আয়োজন করা হবে। লক্ষ্য— ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি, নতুন কার্ড ইস্যু, হারিয়ে যাওয়া কার্ড পুনরুদ্ধার এবং পরিচয় বিকৃতির সংশোধন।
তিনি আরও জানান, প্রতিটি অংশে BLO–নেতৃত্বাধীন মোবাইল ক্যাম্পে থাকবে—
- নতুন ভোটার নিবন্ধনের সহায়তা,
- পিতৃপরিচয়–সংক্রান্ত জটিলতার সমাধানে ফর্ম পূরণের বিশেষ সহায়ক ব্যবস্থা,
- তৃতীয়লিঙ্গ পরিচয়ের জন্য যথাযথ তালিকাভুক্তি ও সংশোধনের দ্রুত প্রক্রিয়া,
- ভোটারদের জন্য সচেতনতা ও গোপনীয়তার সুরক্ষা–সংক্রান্ত উদ্যোগ।
মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বলেন, “এটি কোনও বিশেষ সুবিধা নয়, এঁদের সাংবিধানিক অধিকার। গণতন্ত্রে অংশগ্রহণের অধিকার পরিচয়ের শিকলে বেঁধে রাখা যাবে না। পেশা, লিঙ্গপরিচয় বা জন্ম–পরিচয় যাই হোক, ভোটাধিকার সবার জন্য সমান এবং অলঙ্ঘনীয়।”
নির্বাচন কমিশনের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মী, সমাজকর্মী ও নির্বাচনী পর্যবেক্ষকরা। তাঁরা বলছেন— প্রশাসনিক প্রচলিত নথিতে পরিচয়ের সংকীর্ণ কাঠামো ভেঙে গণতন্ত্রের প্রকৃত সম্প্রসারণই এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় দিক।
কমিশনের আশা, জানুয়ারির মধ্যেই চলমান এফএলসি সহ নির্বাচনী প্রস্তুতির পাশাপাশি এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে সোনাগাছি ও সমতুল এলাকার ভোটাধিকার–জটিলতার বড় অংশ সুরাহা করা সম্ভব হবে। যাতে নির্বাচন হয় শুধু প্রযুক্তিতে নয়, মানবিক অন্তর্ভুক্তিতেও ত্রুটিমুক্ত।

![]()

More Stories
ওড়ন ষষ্ঠীতে বস্ত্রদান ও সহমর্মিতার বার্তা—অগ্রহায়ণের শ্রীক্ষেত্রে মানবিকতার নতুন অধ্যায়
অসামাপ্ত রেলস্বপ্ন: বাগনান–আমতা–চাঁপাডাঙা প্রকল্প জমি–জটে স্থবির
জয়রামবাটির সিংহবাহিনী মন্দির — গ্রামবাংলার বিশ্বাসের এক অনন্য তীর্থ