বিশ্ব ইতিহাসের এক শক্তিশালী অথচ বিতর্কিত অধ্যায়
সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ তারিখ নিয়ে বিতর্ক থাকলেও সাধারণত ২১ ডিসেম্বর জোসেফ ভিসারিওনোভিচ স্ট্যালিনের জন্মদিন হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসছে। ১৮৭৮ সালের এই দিনে (বর্তমান জর্জিয়ার গোরি শহরে) জন্মগ্রহণ করেন সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রাক্তন রাষ্ট্রনায়ক ও কমিউনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা স্ট্যালিন। তাঁর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে স্মরণ ও বিতর্ক—দু’টিই সমানভাবে উঠে এসেছে।
১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের পর ভ্লাদিমির লেনিনের মৃত্যুর পর সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে অধিষ্ঠিত হন স্ট্যালিন। তাঁর শাসনামলেই সোভিয়েত রাষ্ট্র একটি কৃষিপ্রধান সমাজব্যবস্থা থেকে দ্রুত শিল্পোন্নত ও সামরিক মহাশক্তিতে পরিণত হয়। পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মাধ্যমে পরিকল্পিত অর্থনীতির সূচনা, ভারী শিল্পের বিকাশ এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে লাল ফৌজের ঐতিহাসিক বিজয়ে তাঁর নেতৃত্ব বিশ্ব ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
তবে একই সঙ্গে স্ট্যালিনের শাসনকাল গভীর বিতর্কে ঘেরা। রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, ‘গ্রেট পার্জ’, গুলাগ শ্রমশিবির, গণগ্রেপ্তার ও মৃত্যুদণ্ডের মতো ঘটনাগুলি লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যুর সঙ্গে যুক্ত বলে ইতিহাসবিদদের একাংশ মনে করেন। এই কঠোর শাসনব্যবস্থার জন্য তিনি আজও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতীক হিসেবে সমালোচিত।
স্ট্যালিনের জন্মদিন ঘিরে মতভেদ স্পষ্ট। একদিকে বামপন্থী সংগঠন ও তাঁর অনুগামীরা তাঁকে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের রূপকার এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে স্মরণ করেন। অন্যদিকে বহু ইতিহাসবিদ ও মানবাধিকার সংগঠন তাঁকে একনায়কতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় দমননীতির প্রতিচ্ছবি বলে চিহ্নিত করেন।
রাশিয়ার মস্কোয় রেড স্কোয়ারে অবস্থিত স্ট্যালিনের সমাধিস্থলে আজ সকালে রাশিয়ান কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ও বামপন্থী সমর্থকেরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। লাল পতাকা ও স্ট্যালিনের প্রতিকৃতি হাতে নিয়ে তাঁরা তাঁর অবদান স্মরণ করেন। একইভাবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বামপন্থী সংগঠনগুলি আলোচনা সভা, স্মরণসভা ও মিছিলের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানগুলিতে বক্তারা স্ট্যালিনের ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থান এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তাঁর কঠোর নেতৃত্বের কথা তুলে ধরেন। সমর্থকদের মতে, বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে উগ্র জাতীয়তাবাদ ও যুদ্ধোন্মাদনার প্রেক্ষাপটে স্ট্যালিনের আপসহীন অবস্থান নতুন করে আলোচনার দাবি রাখে। যদিও সমালোচকদের বক্তব্য, ইতিহাসের এই অধ্যায়কে মূল্যায়ন করতে হলে উন্নয়নের পাশাপাশি মানবিক ক্ষয়ক্ষতির দিকটিও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।
অভিজ্ঞ মহল মনেকরেন স্ট্যালিনের জন্মবার্ষিকী তাই শুধুমাত্র একজন নেতার স্মরণ নয়—বরং বিশ্ব ইতিহাসের এক জটিল, শক্তিশালী ও রক্তাক্ত অধ্যায়কে নতুন করে পর্যালোচনার উপলক্ষ।

![]()

More Stories
রবি শস্য চাষে রেকর্ড বৃদ্ধি: ৬৭৬ লক্ষ হেক্টর ছাড়াল আবাদ, গমে ৩৩৫ লক্ষ হেক্টর
বৈষ্ণোদেবী দর্শনে এসে আটকে পড়া যাত্রীদের জন্য কাটরা–শ্রীনগর রুটে বিশেষ ট্রেন চালাবে রেলমন্ত্রক
লোকসভায় বিশৃঙ্খলা: বাজেট অধিবেশনের বাকি সময়ের জন্য আট বিরোধী সাংসদ সাসপেন্ড