February 4, 2026

আজ কল্পতরো দিবস: রামকৃষ্ণ দেবের করুণার স্মরণে ভক্তিময় উৎসব

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ; আজ ১ জানুয়ারি—শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের স্মৃতিবিজড়িত পবিত্র কল্পতরো দিবস। প্রতিবছরের মতো এদিন রাজ্যজুড়ে তথা দেশ-বিদেশে রামকৃষ্ণ ভাবানুরাগী ভক্তদের মধ্যে গভীর ভক্তি, শ্রদ্ধা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে পালিত হচ্ছে কল্পতরো উৎসব। দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দির ও রামকৃষ্ণ মঠ-মিশনগুলিতে ভোর থেকেই উপচে পড়েছে ভক্তদের ভিড়।

১৮৮৬ সালের এই দিনে দক্ষিণেশ্বরের কাশীপুর উদ্যানবাটিতে অসুস্থ শরীরে শয্যাশায়ী অবস্থায় শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ দেব নিজেকে ‘কল্পতরু’—অর্থাৎ ইচ্ছাপূরণকারী দিব্য বৃক্ষ—রূপে প্রকাশ করেছিলেন বলে বিশ্বাস। ভক্তদের যে যা কামনা, তিনি তা পূরণ করেছিলেন—এই ঘটনাই কল্পতরো দিবস হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে। ভক্তদের মতে, এদিন হৃদয় থেকে প্রার্থনা করলে ভগবানের কৃপালাভ হয়।

আজ ভোর থেকেই দক্ষিণেশ্বর মন্দির চত্বরে বিশেষ পূজা, আরতি ও ভোগ নিবেদনের আয়োজন করা হয়। রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের বিভিন্ন কেন্দ্রে আয়োজিত হয়েছে ধর্মসভা, ভক্তিগীতি, পাঠচক্র এবং ধ্যান-প্রার্থনা। সন্ন্যাসী ও ব্রহ্মচারীরা রামকৃষ্ণ দেবের জীবনী, তাঁর বাণী ও মানবধর্মের আদর্শ তুলে ধরেন বক্তৃতার মাধ্যমে।

রামকৃষ্ণ মিশনের এক সন্ন্যাসী বলেন, “কল্পতরো দিবস আমাদের শেখায় নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও মানবসেবার কথা। রামকৃষ্ণ দেব ধর্মের গণ্ডি পেরিয়ে মানবধর্মের কথা বলেছিলেন। আজকের দিনে সেই শিক্ষাই আরও প্রাসঙ্গিক।”

শুধু কলকাতা নয়, রাজ্যের বিভিন্ন জেলা, এমনকি দেশের নানা প্রান্তে রামকৃষ্ণ মিশনের কেন্দ্রগুলিতে আজ বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বহু ভক্ত উপবাস রেখে বা ব্রত পালন করে এই দিনটি উদযাপন করেন। কোথাও কোথাও দরিদ্র নারায়ণের সেবাও করা হয়।

নতুন বছরের প্রথম দিনেই কল্পতরো উৎসব পড়ায় ভক্তদের কাছে এই দিনটির গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। তাঁদের বিশ্বাস, বছরের শুরুতেই রামকৃষ্ণ দেবের আশীর্বাদ লাভ করলে সারা বছর শান্তি ও কল্যাণ বজায় থাকে।

সব মিলিয়ে, আজকের কল্পতরো দিবস শুধুই একটি ধর্মীয় উৎসব নয়—এটি মানবপ্রেম, সহনশীলতা ও আত্মশুদ্ধির এক মহান বার্তা বহন করে চলেছে, যা শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব তাঁর জীবন ও বাণীর মাধ্যমে মানবজাতিকে উপহার দিয়েছিলেন।

Loading