February 4, 2026

হিমালয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল আখরোট: স্বাস্থ্য ও পরিবেশ—দু’দিকেই উপকারী

সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ হিমালয় অঞ্চলের শীতল ও নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ুতে উৎপন্ন আখরোট বর্তমানে শুধু একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসলই নয়, বরং পুষ্টিগুণ ও পরিবেশগত গুরুত্বের কারণেও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ভারতে মূলত জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড এবং অরুণাচল প্রদেশে আখরোটের ব্যাপক চাষ হয়।

দেশের মধ্যে আখরোট উৎপাদনে শীর্ষস্থানে রয়েছে জম্মু ও কাশ্মীর। এই রাজ্য একাই ভারতের মোট আখরোট উৎপাদনের বড় অংশ জোগান দেয়। পাশাপাশি হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড ও অরুণাচল প্রদেশের পার্বত্য এলাকায় অনুকূল জলবায়ুর কারণে আখরোট চাষ ক্রমশ বাড়ছে। এছাড়াও সিকিম ও দার্জিলিংয়ের কিছু অংশে আখরোট গাছ দেখা যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আখরোট মানবস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এতে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইবার মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আখরোটে উপস্থিত পলিফেনল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মস্তিষ্কের কোষকে অক্সিডেটিভ চাপ থেকে রক্ষা করে এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও আখরোট কার্যকর। নিয়মিত আখরোট গ্রহণ রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে। পাশাপাশি আখরোট অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি করে হজমতন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়।

এছাড়া আখরোটের রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণ, যা শরীরের প্রদাহ কমাতে সহায়ক। প্রোটিন, ফাইবার, বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজে সমৃদ্ধ এই বাদাম সুষম খাদ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পরিবেশগত দিক থেকেও আখরোট গাছের গুরুত্ব অপরিসীম। এই গাছ কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে, মাটির উর্বরতা বাড়ায় এবং বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল তৈরি করে।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, সঠিক পরিকল্পনা ও সরকারি সহায়তা পেলে আখরোট চাষ পাহাড়ি অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

Loading