February 4, 2026

আগামী ১০–১৫ বছরে হারিয়ে যেতে পারে একটি প্রজন্ম

নিঃশব্দে নিঃশেষ হচ্ছে শৈশব, উদ্বেগে সমাজ

সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ চোখের সামনে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে একটি প্রজন্ম। কারও কোনও উচ্চস্বরে বিদ্রোহ নেই, নেই কোনও দৃশ্যমান বিপর্যয়—তবু আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যেই সমাজ এমন এক শূন্যতার মুখোমুখি হতে পারে, যার ক্ষত সহজে সারবে না। প্রযুক্তির হাত ধরে গড়ে ওঠা এক নিঃশব্দ বাস্তবতা আজ শৈশব, কৈশোর এবং তারুণ্যকে গ্রাস করছে।

এক সময় যে শিশুরা মাঠে দৌড়ে বেড়াত, ঘাম ঝরিয়ে খেলত, বইয়ের পাতায় হারিয়ে যেত কল্পনার জগতে—আজ তারা বন্দি হয়ে পড়েছে মোবাইল ফোনের ছোট্ট পর্দায়। ঘন্টার পর ঘন্টা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা চোখে জমছে ক্লান্তি, মনে জমছে শূন্যতা। বাবা-মায়ের ডাকে সাড়া নেই, বন্ধুদের সঙ্গে মুখোমুখি কথোপকথন নেই—সবকিছুই যেন সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে ভার্চুয়াল দুনিয়ায়।

শিক্ষক ও অভিভাবকদের উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। পড়াশোনায় মনোযোগ কমছে, ধৈর্য হারাচ্ছে শিশুরা। অল্পতেই রেগে যাওয়া, হতাশ হয়ে পড়া, একাকীত্বে ডুবে যাওয়ার প্রবণতা চোখে পড়ছে সর্বত্র। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রজন্ম ধীরে ধীরে বাস্তব জীবনের সংগ্রাম থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছে।

মনোবিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, নিয়ন্ত্রণহীন প্রযুক্তি ব্যবহার শিশুদের মানসিক বিকাশে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। সহানুভূতি, মানবিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা—এই মৌলিক গুণগুলি ক্ষয়িষ্ণু হয়ে পড়ছে। যার ফলস্বরূপ ভবিষ্যৎ সমাজ পেতে পারে একদল মানুষ, যারা প্রযুক্তিতে দক্ষ হলেও জীবনের বাস্তবতায় ভীষণভাবে একা।

সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হল—এই পরিবর্তন ঘটছে আমাদের চোখের সামনেই, অথচ আমরা অনেকেই তা বুঝেও বুঝছি না। সন্তানের হাতে মোবাইল তুলে দিয়ে ব্যস্ততা সামলানো সহজ, কিন্তু তার মূল্য যে কত বড়, তা হয়তো অনেক দেরিতে উপলব্ধি হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এখনই ব্যবস্থা না নিলে আগামী এক দশকের মধ্যেই সমাজ এমন এক প্রজন্মের মুখোমুখি হবে, যারা বইয়ের গন্ধ চেনে না, মাঠের আনন্দ বোঝে না, পারিবারিক উষ্ণতা অনুভব করতে ভুলে গেছে। প্রযুক্তিকে দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়, বরং তার সঠিক ব্যবহার শেখানোই এখন সময়ের দাবি।

শৈশবকে ফেরাতে হলে প্রয়োজন খেলাধুলা, গল্প, বই, আড্ডা আর পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনা। না হলে আগামী ১০–১৫ বছরে একটি প্রজন্ম নিঃশব্দে হারিয়ে যাবে—আর সেই ক্ষতির দায়ভার বহন করবে পুরো সমাজ।

Loading