সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ আচ্ছা বলুন তো শারীরিক অক্ষমতা কি মেধার পথে বাধা হতে পারে? পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরের তুহিন দে প্রমাণ করে দিয়েছেন—শরীর নয়, মানুষের আসল শক্তি তার মন ও মেধা। জন্মগতভাবে শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ অক্ষমতা সত্ত্বেও অদম্য জেদ আর অধ্যবসায়ে তিনি জয় করেছেন ভারতের অন্যতম কঠিন শিক্ষাক্ষেত্র—আইআইটি।
তুহিন দে জন্মের পর থেকেই আক্রান্ত ‘আর্থ্রোগ্রাইপোসিস মাল্টিপ্লেক্স কনজেনিটা’ (Arthrogryposis Multiplex Congenita) নামে এক বিরল রোগে। এই রোগের ফলে তাঁর হাত ও পায়ের পেশি কার্যত অচল। চিকিৎসকদের অনেকেই আশার আলো দেখাতে পারেননি। কিন্তু তুহিনের বাবা-মা—মৌমিতা দে ও সমীরণ দে—হাল ছাড়েননি। ছোট বয়স থেকেই তাঁরা বুঝেছিলেন, ছেলের শরীর সীমাবদ্ধ হলেও মেধা অসীম।
হাত-পা কাজ না করায় তুহিন ছোটবেলা থেকেই মুখে কলম ধরে লিখতে শেখেন। দাঁতের ফাঁকে পেন চেপে, কখনও চিবুক দিয়ে ল্যাপটপ ও মোবাইল চালিয়ে চলেছে তাঁর পড়াশোনা। পরীক্ষার হলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে ছেলেকে সাহায্য করেছেন বাবা-মা। তাঁদের ত্যাগ আর তুহিনের অধ্যবসায় মিলেই তৈরি হয়েছে এই সাফল্যের ভিত।
আইআইটি খড়গপুরে সাফল্য
অসাধারণ মেধার জোরে তুহিন ‘JEE Advanced’-এ বিশেষ সক্ষম (PwD) ক্যাটাগরিতে ৪৩৮ র্যাঙ্ক অর্জন করেন। এর ফলেই তিনি সুযোগ পান দেশের অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠান আইআইটি খড়গপুরে কম্পিউটার সায়েন্সে পড়াশোনার।
পড়াশোনার মধ্যেই তুহিনের সামনে আসে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা বার্ষিক বেতনের চাকরির প্রস্তাব। কর্পোরেট জগতের এই মোটা মাইনের হাতছানি অনেককেই বিচলিত করতে পারে। কিন্তু তুহিনের স্বপ্ন ছিল আরও বড়। অর্থ নয়, গবেষণা ও দেশের সেবা—এই লক্ষ্যেই তিনি সেই প্রস্তাব উপেক্ষা করেন।
তুহিনের স্বপ্ন, একদিন ইসরো (ISRO) বা ডিআরডিও (DRDO)-তে বিজ্ঞানী হয়ে দেশের জন্য কাজ করা। তাঁর আদর্শ প্রয়াত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং। আজ তুহিন নিজেই হয়ে উঠেছেন হাজারো প্রতিবন্ধী ও সাধারণ ছাত্রছাত্রীর অনুপ্রেরণা।
তুহিন দে-র জীবনকাহিনি শুধু সাফল্যের গল্প নয়, এটি লড়াইয়ের দলিল। যেখানে শরীর থেমে যায়, সেখানেই শুরু হয় মনের জয়যাত্রা—এই বার্তাই দিয়ে যায় তুহিনের জীবন।

![]()

More Stories
কয়লা পাচার কাণ্ডে পশ্চিমবঙ্গে ইডির তল্লাশি অভিযান, দুর্গাপুর ও বুদবুদে হানা
দিল্লিতে রাজ্য পুলিশের বাড়তি টিম, ২২ জনের দল রাতের বিমানে রওনা
লোকভবনে রাজ্যপালের কাছে SIR সংক্রান্ত দাবিপত্র বিজেপি বিধায়কদের