সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ আজ ৬ই ফেব্রুয়ারি। ভারতীয় সংগীত জগতের এক নক্ষত্রপতনের দিন। ২০২২ সালের আজকের দিনেই সুরের ভুবন ছেড়ে চিরবিদায় নিয়েছিলেন ভারতরত্ন লতা মঙ্গেশকর। আজ তাঁর চতুর্থ প্রয়াণ দিবসে দেশবাসী ও সংগীতপ্রেমীরা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছেন তাঁদের প্রিয় ‘লতা দিদি’-কে।
১৯২৯ সালে ইন্দোরে জন্ম নেওয়া লতা মঙ্গেশকর মাত্র ১৩ বছর বয়সে তাঁর সংগীত জীবনের যাত্রা শুরু করেন। দীর্ঘ সাত দশকেরও বেশি সময়ের কর্মজীবনে তিনি গেয়েছেন প্রায় ৩০ হাজারেরও বেশি গান। বাংলা, হিন্দি, মারাঠি থেকে শুরু করে ৩৬টিরও বেশি ভাষায় তাঁর কণ্ঠের মহিমা ছড়িয়ে রয়েছে। তাঁর কণ্ঠের স্বচ্ছতা এবং সুরের নিখুঁত বুননের জন্য তাঁকে ‘কোকিল কণ্ঠী’ ও ‘সুর সম্রাজ্ঞী’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
কেবল চলচ্চিত্র সংগীত নয়, জাতীয়তাবোধের জাগরণেও তাঁর ভূমিকা ছিল অপরিসীম। ১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তাঁর গাওয়া ‘অ্যায় মেরে ওয়াতন কে লোগো’ শুনে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু। ২০০১ সালে ভারত সরকার তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ‘ভারতরত্ন’-এ ভূষিত করে। এছাড়াও তিনি পদ্মবিভূষণ, পদ্মভূষণ এবং দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারের মতো বহু সম্মানে সম্মানিত হয়েছেন।
আজকের বিশেষ দিনটিতে মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্ক থেকে শুরু করে কলকাতার সংগীত একাডেমি— সর্বত্রই ভক্তরা তাঁর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান ও তাঁর গান গেয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। সংগীত বিশেষজ্ঞদের মতে, লতা মঙ্গেশকর কেবল একজন গায়িকা ছিলেন না, তিনি ছিলেন ভারতীয় সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
শারীরিকভাবে তিনি অনুপস্থিত থাকলেও, তাঁর অমর কণ্ঠস্বর প্রতিটি ভারতীয়র হৃদয়ে চিরকাল ধ্বনিত হবে। লতা মঙ্গেশকর আজ তাঁর গানের মাধ্যমেই প্রমাণ করে গিয়েছেন— “মেরি আওয়াজ হি পেহচান হ্যায়”।

![]()

More Stories
লখনউ ডিভিশনে ৬০০ কিলোমিটারের বেশি রেলপথে বসছে কবচ ৪.০
মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে পৌঁছল ৪০ লক্ষ লিটারের বেশি ডিজেল
EPFO-র আওতায় আসার বেতনসীমা ১৫ হাজার থেকে বেড়ে ২৫ হাজার, উপকৃত হবেন ৫১ লক্ষের বেশি কর্মী