February 15, 2026

শিবরাত্রি ব্রতকথা: ভক্তি, করুণা ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা

সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে পালিত হয় মহাশিবরাত্রি। প্রতি মাসেই কৃষ্ণ চতুর্দশী ‘শিবরাত্রি’ হিসেবে মানা হলেও এই দিনটি বিশেষভাবে পবিত্র। অনেকে এই তিথিকে শিবলিঙ্গের আবির্ভাব দিবস, আবার কেউ শিব-পার্বতীর বিবাহ দিবস বলে মনে করেন।

এই ব্রত নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের জন্য। মন্দিরে গিয়ে বা ঘরে বসেই ভক্তিভরে পালন করা যায়। শাস্ত্র মতে ব্রত পালনের পাশাপাশি ব্রতকথা শ্রবণও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই ব্রতকথার উল্লেখ পাওয়া যায় শিব পুরানের -এর জ্ঞানসংহিতায়।

পৌরাণিক কাহিনী: পুরাণ অনুসারে, দেবী পার্বতী শিবকে পতি হিসেবে পাওয়ার জন্য কঠোর তপস্যা করেছিলেন এবং এই বিশেষ তিথিতেই শিব তাঁকে বিবাহ করেন, যা শিব ও শক্তির মিলন হিসেবে গণ্য হয়।

ব্যাধের কাহিনি–বহু আগে রুরুদ্রহ নামে এক ব্যাধ ছিল। শিকার করেই তার পরিবার চলত। একদিন কৃষ্ণ চতুর্দশীর রাতে শিকারে বেরিয়ে সারাদিন কিছু না পেয়ে সে এক পুকুরপাড়ে বেলগাছে উঠে অপেক্ষা করতে থাকে। অজান্তেই সেই গাছের নিচে ছিল একটি শিবলিঙ্গ।

রাতে একের পর এক হরিণ ও হরিণী জলপান করতে এলে ব্যাধ তাদের লক্ষ্য করে তীর তুলত। সেই সময় গাছ থেকে বেলপাতা ও তার রাখা জল শিবলিঙ্গের উপর পড়ে—অজান্তেই সম্পন্ন হয় শিবের চার প্রহরের পূজা।

প্রতিটি হরিণ জীবনের শেষ ইচ্ছা জানিয়ে ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি দেয়, আর ব্যাধ তাদের ছেড়ে দেয়। শেষে সবাই ফিরে এলে ব্যাধের মনে করুণা জাগে। সে শিকার না করে তাদের মুক্ত করে দেয়।

এই দৃশ্য দেখে আবির্ভূত হন দেবাদিদেব শিব। ব্যাধ তাঁর দর্শনে ধন্য হয়ে কিছুই প্রার্থনা করেনি। তুষ্ট হয়ে শিব তাকে সুখ-শান্তি, বংশবৃদ্ধি ও কল্যাণের বর দেন এবং “গুহ” নামে অভিহিত করেন।

ব্রতের তাৎপর্য-এই কাহিনি জানায়—অজান্তে শিবরাত্রি ব্রত পালন করলেও ভগবান শিব সন্তুষ্ট হন। আর ভক্তি ও নিয়ম মেনে পালন করলে তার ফল আরও গভীর।

প্রথা অনুযায়ী চার প্রহরে চার দ্রব্য অর্পণ করা শুভ—

  • দুধ
  • দধি
  • ঘৃত
  • মধু

এছাড়া দুঃস্থ মানুষের সেবা করাও ব্রতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

শিবরাত্রি শুধুই ‘বর চাওয়ার’ দিন নয়—এটি আত্মশুদ্ধির দিন। শিবকে অন্তরে ধারণ করে হৃদয়কে পবিত্র করার শিক্ষা দেয় এই ব্রত।

“সচ্চিদানন্দ স্বরূপম শিবোহম”—অর্থাৎ ‘আমিই শিব’।
এই ভাবনা যখন হৃদয়ে স্থান পায়, তখন মানুষ অন্যের ক্ষতি করতে পারে না, নিজেরও ক্ষতি করে না।

মহাশিবরাত্রি তাই ভক্তি, করুণা ও মানবতার এক মহৎ শিক্ষা বহন করে।

Loading