প্রেম ও ভক্তির জোয়ারে ভাসল আরামবাগের কালিপুরের ভক্তিবৃক্ষ গৌর-নিতাই ইসকন মন্দির , পালিত হল গৌড় পূর্ণিমা

 

১৪৮৬ সালে এই তিথিতেই নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু। তাঁর প্রচারিত হরিনাম সংকীর্তন আজও ভক্তদের হৃদয়ে জাগিয়ে তোলে প্রেম, ভ্রাতৃত্ব ও মানবতার বার্তা। দিনভর উপবাস, পূজা-অর্চনার পাশাপাশি গীতা ভাগবত পাঠ ও ধর্মীয় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ছোট থেকে বড়—সব বয়সের মানুষ এই অনুষ্ঠানে শামিল হন।

সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ আজ পবিত্র গৌড় পূর্ণিমা। ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু-এর আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে ভক্তি, আবেগ ও নামসংকীর্তনের ঢেউয়ে ভাসল আরামবাগের এই কালিপুর ভক্তিবৃক্ষ গৌর-নিতাই ইসকন মন্দির। ভোরের প্রথম আলো ফুটতেই শঙ্খধ্বনি, ঘণ্টানাদ ও “হরিবোল” ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে এই মন্দির চত্বর।

অনুষ্ঠান চলাকালীন সকাল সাড়ে দশটা এগারোটা নাগাদ গোঘাটের হাজিপুরের করপুকুর এলাকায় চাঁচর দেখে বাড়ি ফেরার পথে এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় কয়েকজনের প্রাণহানি ও একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকাবাসী ও ভক্তরা স্তব্ধ হয়ে যান। গৌড় পূর্ণিমার পবিত্র আবহের মধ্যেই এই দুর্ঘটনা সকলকে ব্যথিত করেছে। সন্ধ্যায় কালিপুর এই মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্তরা একত্রিত হয়ে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য প্রার্থনা করেন। শঙ্খধ্বনি ও প্রদীপ জ্বালিয়ে অনুষ্ঠিত হয় নীরব প্রার্থনা সভা।

এক ভক্তের কথায়, “উৎসবের আনন্দ মুহূর্তেই শোকে পরিণত হলো। আমরা প্রার্থনা করি ঈশ্বর তাঁদের পরিবারকে এই কঠিন সময়ে শক্তি দিন।”

 পাশাপাশি এলাকা থেকেও থেকেও বহু ভক্ত উপস্থিত হয়েছেন এই পুণ্যতিথি উদ্‌যাপনে। বিকেলের পর চাঁদের আলোয় বিশেষ আরতি ও মহাপ্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে আবেগঘন পরিবেশ আরও গভীর হয়ে ওঠে।

ভক্তদের কথায়, “গৌড় পূর্ণিমা মানে শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি আত্মশুদ্ধির দিন, প্রেম ও ক্ষমার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার দিন।”

আজকের এই পূর্ণিমার চাঁদ যেন স্মরণ করিয়ে দিল—হিংসা ও বিভেদের অন্ধকার দূর করে ভক্তি ও ভালোবাসার আলোয় আলোকিত হোক মানবসমাজ।

Loading