দেশজুড়ে নববর্ষের উৎসব, শুরু চৈত্র নবরাত্রি

সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ দেশজুড়ে নানা ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মিলনে গতকাল থেকে উদযাপিত হচ্ছে একাধিক নববর্ষের উৎসব। চৈত্র শুক্লাদি, উগাদি, গুড়ি পড়বা, চেটি চাঁদ, নবরেহ এবং সাজিবু চেইরোবা—এই ছয়টি উৎসবের মাধ্যমে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে নতুন বছরের সূচনা হল উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে। গতকাল থেকেই শুরু হয়েছে চৈত্র নবরাত্রি, যা ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক দিক থেকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

দেশের বিভিন্ন রাজ্যে এই উৎসবগুলি ভিন্ন ভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পালিত হচ্ছে। দক্ষিণ ভারতে উগাদি উপলক্ষে ঘরে ঘরে তৈরি হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ‘উগাদি পচড়ি’, যা জীবনের নানা স্বাদের প্রতীক। মহারাষ্ট্রে গুড়ি পড়বা-তে বাড়ির সামনে ‘গুড়ি’ স্থাপন করে শুভ সূচনা ও বিজয়ের প্রতীক উদযাপন করা হয়েছে। অন্যদিকে সিন্ধি সম্প্রদায় চেটি চাঁদ উৎসবে শোভাযাত্রা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভগবান ঝুলেলাল-এর জন্মজয়ন্তী পালন করছেন।

কাশ্মীরি পণ্ডিতদের কাছে নবরেহ নতুন বছরের সূচনার প্রতীক, যেখানে ঘরে ঘরে বিশেষ পূজা ও ঐতিহ্যবাহী থালা সাজানোর রীতি রয়েছে। মণিপুরে সাজিবু চেইরোবা উপলক্ষে পরিবারে ভোজের আয়োজন এবং পাহাড়ে ওঠার প্রথা লক্ষ্য করা গেছে, যা জীবনে উন্নতির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।

এদিকে চৈত্র নবরাত্রি উপলক্ষে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে দেবী আরাধনা। ভক্তরা উপবাস, পূজা ও নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আগামী নয়দিন দেবী দুর্গার বিভিন্ন রূপের উপাসনা করবেন। এই নবরাত্রির শেষ দিনে পালিত হবে রাম নবমী, যা রাম-এর জন্মতিথি হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

এই শুভক্ষণে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড় এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তাঁরা দেশের ঐক্য, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন।

বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এই সম্মিলিত উদযাপন আবারও প্রমাণ করল, বৈচিত্র্যের মধ্যেই ভারতের প্রকৃত শক্তি নিহিত।

Loading