রাজনীতিতে রাফ অ্যান্ড টাফ, খাবারে একেবারে ঘরোয়া বাঙালি শুভেন্দু

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: রাজনীতির মঞ্চে তিনি যতটা তেজস্বী, বাড়ির খাবারের টেবিলে ঠিক ততটাই সহজ-সরল বাঙালি। বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-কে সাধারণ মানুষ বরাবর দেখেছেন কড়া ভাষণের নেতা হিসেবে। বিরোধীদের উদ্দেশে তাঁর তীক্ষ্ণ আক্রমণ, রাজনৈতিক লড়াই কিংবা জনসভায় আগ্রাসী ভঙ্গি—সব মিলিয়ে তাঁর এক দৃঢ় ব্যক্তিত্বের ছবি তৈরি হয়েছে মানুষের মনে। কিন্তু পরিবারের কাছে তিনি এখনও সেই শান্ত স্বভাবের, ঘরোয়া মানুষটাই। অধিকারী পরিবারের কর্তা শিশির অধিকারী বহুদিন ধরেই বাংলার রাজনীতির পরিচিত মুখ। সেই পরিবারেরই মেজ ছেলে শুভেন্দু আজ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন। বিজেপির হয়ে বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর নাম ইতিমধ্যেই ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে। তবে রাজনীতির কঠিন ব্যস্ততার মধ্যেও শুভেন্দুর পছন্দ কিন্তু একেবারে খাঁটি বাঙালি খাবার। তাঁর মা গায়েত্রী অধিকারীর কথায়, ছোটবেলা থেকেই শুভেন্দু ছিলেন অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের। অন্য ছেলেদের মতো দুষ্টুমি করতেন না বললেই চলে। তাই তাঁকে আলাদা করে বকাঝকা করার প্রয়োজনও পড়েনি কখনও।খাওয়াদাওয়ার ক্ষেত্রেও তেমন কোনও আড়ম্বর নেই তাঁর। সকালে বাড়িতে থাকলে রুটি, সবজি আর ফল খেতেই বেশি পছন্দ করেন। কিন্তু গরমের রাতে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় খাবার—পান্তা ভাত বা জল ঢালা ভাত, সঙ্গে আলুভাতে। তার সঙ্গে যদি থাকে মাছ ভাজা, তবে আর কিছুই চাই না। পোস্ত-ডালও তাঁর পছন্দের তালিকায় রয়েছে। তবে সব কিছুর উপরে জায়গা করে নিয়েছে ইলিশ। বিশেষ করে ভাপা ইলিশ কিংবা ইলিশ ভাজা নাকি তাঁর অত্যন্ত প্রিয়। ব্যস্ত রাজনৈতিক জীবনের মাঝেও সুযোগ পেলেই মায়ের হাতের ইলিশ খেতে ভোলেন না শুভেন্দু। একদিকে রাজনীতির কঠোর লড়াই, অন্যদিকে পান্তা ভাত আর ভাপা ইলিশে মাখামাখি এক সাধারণ বাঙালি জীবন—এই দুইয়ের মিশেলেই যেন তৈরি শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিত্ব।

Loading