ভাইরাল গেজেট ঘিরে চাঞ্চল্য: ভাঙল কি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা?

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে একটি কথিত সরকারি গেজেট বিজ্ঞপ্তিকে ঘিরে। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি নথিতে দেখা যাচ্ছে, “দ্য কলকাতা গেজেট এক্সট্রা অর্ডিনারি” শিরোনামে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সংসদীয় বিষয়ক দপ্তরের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে রাজ্যের বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশের উল্লেখ রয়েছে। নথি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৬ মে তারিখে জারি হওয়া ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে ভারতের সংবিধানের ১৭৪ অনুচ্ছেদের ২ নম্বর ধারার (বি) উপধারার ক্ষমতাবলে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ২০২৬ সালের ৭ মে থেকে ভেঙে দেওয়া হচ্ছে।ভাইরাল হওয়া এই নথিতে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে আর. এন. রবির নাম ও স্বাক্ষর দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্যসচিব হিসেবে দুষ্যন্ত নারিয়ালার নামও উল্লেখ রয়েছে। বিজ্ঞপ্তির নিচে “Published by the Department of Parliamentary Affairs, West Bengal” কথাটিও স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে। ফলে নথিটি প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।সংবিধান অনুযায়ী, কোনো রাজ্যের বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা রাজ্যপালের হাতে থাকলেও সাধারণত তা কার্যকর হয় মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ বা রাজনৈতিক পরিস্থিতির ভিত্তিতে। বিধানসভা ভেঙে যাওয়া মানে পূর্ববর্তী আইনসভার কার্যকাল শেষ হয়ে যাওয়া এবং নতুন সরকার গঠনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়া। এর পরবর্তী ধাপে সাধারণত নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ, মন্ত্রিসভা গঠন এবং নবনির্বাচিত বিধায়কদের কার্যভার গ্রহণের পথ প্রশস্ত হয়।রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ধরনের গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ সাধারণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হলেও এর রাজনৈতিক তাৎপর্য অত্যন্ত বড়। বিশেষ করে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সরকার পরিবর্তনের আবহে এই ধরনের নথি প্রকাশ স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়। সামাজিক মাধ্যমেও এই নথিকে ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। অনেকেই একে “সরকারি পালাবদলের আনুষ্ঠানিক সূচনা” বলেও ব্যাখ্যা করছেন।তবে এই নথির সত্যতা নিয়ে প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে। কারণ বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমে সম্পাদিত বা ভুয়ো সরকারি নথি ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাও নতুন নয়। ফলে শুধুমাত্র ভাইরাল ছবি দেখে নথিটির সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে মত প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের। সরকারি গেজেটের কোনো নথিকে সম্পূর্ণ বৈধ ও নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়ার আগে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অফিসিয়াল গেজেট পোর্টাল, সরকারি প্রেস বিজ্ঞপ্তি বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সূত্র থেকে তা যাচাই করা জরুরি।তবুও এই নথি ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। বিরোধী ও শাসক—উভয় রাজনৈতিক শিবিরেই শুরু হয়েছে চর্চা। কারণ বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত কেবল প্রশাসনিক নয়, রাজ্যের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এখন নজর সরকারি ব্যাখ্যা ও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণের দিকে।

Loading