অপারেশন সিন্দুরের প্রথম বর্ষপূর্তিতে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: ভারত আজ “অপারেশন সিন্দুর”-এর প্রথম বর্ষপূর্তি পালন করছে। এই উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্তরে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং সীমান্ত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থান আরও একবার স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিদেশ মন্ত্রক—সকলেই এই দিনটিকে শুধু একটি সামরিক বা কৌশলগত অভিযানের স্মারক হিসেবে নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। এই উপলক্ষে বিদেশ মন্ত্রকের মুখ্যপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, “আজ আমরা অপারেশন সিন্দুর-এর প্রথম বার্ষিকী পালন করছি। পাহালগাম সন্ত্রাসী হামলাটি ঠিক কী ছিল, তা সমগ্র বিশ্ব দেখেছে। সমগ্র বিশ্বই জানে যে, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই রাষ্ট্রীয় নীতির হাতিয়ার হিসেবে সীমান্তবর্তী সন্ত্রাসবাদকে ব্যবহার করে আসছে।” তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতের বক্তব্য অনুযায়ী, সীমান্তের ওপার থেকে মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ শুধু ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্যও বড় হুমকি। প্রধানমন্ত্রীও এই দিনে অপারেশন সিন্দুরের বর্ষপূর্তিকে জাতীয় গৌরবের মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় ভারতীয় সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সাহস, আত্মত্যাগ এবং সতর্কতার জন্য গোটা দেশ গর্বিত। একইসঙ্গে তিনি সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ভারতের “জিরো টলারেন্স” নীতির কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।পাহালগাম সন্ত্রাসী হামলার পর অপারেশন সিন্দুর শুরু হয়েছিল বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়। ওই হামলায় নিরীহ মানুষের প্রাণহানি দেশজুড়ে ক্ষোভের সঞ্চার করেছিল। এরপর নিরাপত্তা বাহিনী কাশ্মীর ও সীমান্তবর্তী এলাকায় জঙ্গি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালায়। বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি, গোপন ঘাঁটি ধ্বংস, অস্ত্র উদ্ধার এবং জঙ্গি সংগঠনের সক্রিয় সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভিযানের ফলে সীমান্তবর্তী এলাকায় জঙ্গি কার্যকলাপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অপারেশন সিন্দুর শুধু একটি নিরাপত্তা অভিযান নয়; এটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও ভারতের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে। ভারত বারবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে অভিযোগ করেছে যে পাকিস্তান সীমান্তবর্তী সন্ত্রাসবাদকে দীর্ঘদিন ধরে পরোক্ষভাবে মদত দিয়ে আসছে। রণধীর জয়সোয়ালের বক্তব্য সেই অবস্থানকেই আরও স্পষ্টভাবে সামনে এনেছে। দেশজুড়ে আজ বিভিন্ন জায়গায় শহিদদের স্মরণে অনুষ্ঠান, মোমবাতি মিছিল ও বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। বহু মানুষ সামাজিক মাধ্যমেও ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, দেশের নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ দমনে ভবিষ্যতেও কঠোর অবস্থান বজায় থাকবে। অপারেশন সিন্দুরের প্রথম বর্ষপূর্তি তাই শুধু অতীতের একটি ঘটনার স্মরণ নয়; এটি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের লড়াই, কূটনৈতিক বার্তা এবং জাতীয় ঐক্যেরও প্রতীক হয়ে উঠেছে।

Loading