Oplus_16908288

জয়ের নেপথ্যের সংগঠক

“এটা কোনও একার সাফল্য নয়” — আরামবাগে বিজেপির উত্থানের পেছনে ঐক্যবদ্ধ সংগঠনের বার্তা জেলা সভাপতি সুশান্ত বেরার 

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: নির্বাচনের ময়দানে জয় সাধারণত প্রার্থীদের মুখে ধরা পড়ে, কিন্তু সেই জয়ের ভিত গড়ে ওঠে দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক পরিশ্রম, কৌশল এবং অদৃশ্য লড়াইয়ের উপর। আরামবাগ জেলায় বিজেপির সাম্প্রতিক সাফল্যের নেপথ্যেও উঠে আসছে এমনই এক সংগঠকের নাম— সুশান্ত বেরা। একসময় যেখানে আরামবাগ সাংগঠনিক জেলায় বিজেপির দখলে ছিল মাত্র চারটি বিধানসভা আসন, সেখানে এবার আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আসন— চন্দ্রকোনা, হরিপাল এবং তারকেশ্বর— ছিনিয়ে এনে মোট সাতটি আসনে জয়ের পতাকা তুলেছে বিজেপি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই সাফল্যের পিছনে বড় ভূমিকা রয়েছে জেলা সভাপতি সুশান্ত বেরার ধারাবাহিক সাংগঠনিক কাজ ও কৌশলী পরিকল্পনার। দলীয় সূত্রের খবর, নির্বাচনের অনেক আগে থেকেই সুশান্ত বেরা বিশেষভাবে নজর দিতে শুরু করেন হরিপাল, তারকেশ্বর ও চন্দ্রকোনা কেন্দ্রে। বুথভিত্তিক সংগঠনকে শক্তিশালী করা, নিষ্ক্রিয় কর্মীদের সক্রিয় করা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো— এই তিনটি বিষয়কে তিনি অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। দলের এক কর্মীর কথায়, “উনি শুধু মিটিং করেননি, প্রতিটি বুথের খবর রাখতেন। কোথায় সংগঠন দুর্বল, কোথায় কর্মীদের মনোবল কমে গেছে— সবকিছু নিজে গিয়ে দেখেছেন।” জেলা জুড়ে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে বেড়ানো, রাত্রিবেলাতেও সাংগঠনিক বৈঠক, কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ— এসবই ছিল তাঁর রাজনৈতিক রণকৌশলের অংশ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে বুথভিত্তিক সংগঠনই ছিল বিজেপির প্রধান শক্তি। আর সেই কাজকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করেছেন সুশান্ত বেরা। দলীয় কর্মীদের দাবি, প্রতিটি বুথে কর্মীদের মনোবল বাড়ানো, বাড়ি বাড়ি যোগাযোগ অভিযান, নতুন ভোটারদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি এবং স্থানীয় ইস্যুকে সামনে এনে প্রচার চালানো— এসব ক্ষেত্রেই বিজেপি আরামবাগ জেলা সভাপতির ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে চন্দ্রকোনা,হরিপাল ও তারকেশ্বরের মতো কঠিন আসনে নিয়মিত সাংগঠনিক নজরদারি বিজেপিকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। জয়ের পরে সুশান্ত বেরা জানিয়েছেন, মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করাই এখন তাঁদের প্রথম কাজ।তাঁর কথায়, “মানুষ আমাদের উপর ভরসা করেছে। এখন সেই ভরসার মর্যাদা দেওয়াই প্রধান দায়িত্ব। এই জয় শুধুমাত্র আমার হাত ধরে আসেনি। আমাদের কর্মী, কার্যকর্তা, মহিলা মোর্চা— সকলের অবদান অপরিসীম। সর্বোপরি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ এবং উনার সাথে সাথে মতবিনিময়, কৌশল এবং তার আদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করা এই জয়কে আরো সহজ করে দিয়েছে। একার পক্ষে কখনও জয় আনা সম্ভব নয়। সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করেছে বলেই এই ফল এসেছে।” তিনি আরও জানান, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পরিবেশ থেকে বেরিয়ে এসে উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের কাজ করাই দলের লক্ষ্য হওয়া উচিত। জয়ের আবহেও কর্মীদের সংযত থাকার বার্তা দিয়েছেন জেলা সভাপতি। দলীয় সূত্রের খবর, তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন— “জয়ের আনন্দ থাকবে, কিন্তু মানুষের সঙ্গে আচরণে সংযম ও দায়িত্ববোধ রাখতে হবে।” রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে দূরে থাকার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন লড়াই করা কর্মীদের এখন মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করার সময়। যারা ভোট দেননি, তাঁদের প্রতিও সুশান্ত বেরা জানিয়েছেন, শুধুমাত্র যারা বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন তাঁদের জন্য নয়, গোটা জেলার মানুষের জন্যই কাজ করতে চায় দল।

তিনি বলেন, “গণতন্ত্রে মতের পার্থক্য থাকবে। যারা আমাদের ভোট দেননি, তাঁদের প্রতিও সমান দায়িত্ব রয়েছে। উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনও বিভাজন হবে না।”

এই বার্তাকে রাজনৈতিক সৌজন্যের ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। দলীয় অন্দরে সুশান্ত বেরাকে বরাবরই “মাঠের সংগঠক” হিসেবে দেখা হয়। প্রচারের আলো থেকে অনেকটা দূরে থেকেও সাংগঠনিক দক্ষতার মাধ্যমে তিনি কর্মীদের মধ্যে আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আরামবাগ জেলায় বিজেপির সাংগঠনিক বিস্তারে তাঁর ভূমিকা আগামী দিনেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর সাধারণত বিজয়ী প্রার্থীদের মুখই সামনে আসে। কিন্তু সেই জয়ের পেছনে যে অসংখ্য কর্মী, বুথ সংগঠক এবং জেলা নেতৃত্বের নিরলস পরিশ্রম থাকে, তা অনেক সময় আড়ালেই থেকে যায়।

আরামবাগে বিজেপির সাত আসনের সাফল্যের পর সেই আড়ালের অন্যতম মুখ হিসেবে উঠে আসছে সুশান্ত বেরার নাম— যিনি দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনকে মজবুত করার লক্ষ্যে নীরবে কাজ করে গিয়েছেন।

Oplus_16908288

Loading