সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি শেখ মানোয়ার আলীর রাজনৈতিক জীবন যেন এক দীর্ঘ সংগ্রামের কাহিনি। মুসলিম ধর্মাবলম্বী হয়েও বহু বছর ধরে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টির সঙ্গে যুক্ত। তাঁর দাবি, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ির আমল থেকেই তিনি বিজেপির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। বিশেষ করে বিজেপির রাষ্ট্রবাদী নীতিই তাঁকে আকৃষ্ট করেছিল বলে জানান তিনি।
শেখ মানোয়ার আলীর কথায়, “দল যখন ক্ষমতায় ছিল না, তখন নানা ধরনের অত্যাচারের মুখোমুখি হতে হয়েছে। নিজের সম্প্রদায়ের বহু মানুষই বিরোধিতা করেছেন।” তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে তাঁকে মসজিদ কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল এবং মসজিদে নামাজ পড়তেও বাধা দেওয়া হয়। এমনকি আশপাশের গ্রাম থেকে লোক এনে তাঁর বিরুদ্ধে সামাজিক বিচারসভাও বসানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, সেই সময় তাঁর পাশে দাঁড়ানোর মতো মানুষ খুব কমই ছিলেন। বিভিন্ন সময় প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। “মাথা কেটে ফুটবল খেলা হবে”—এই ধরনের হুমকিও তিনি পেয়েছেন বলে দাবি করেন। তবে এত কিছুর পরেও তিনি ভয় পেয়ে ঘরে বসে থাকেননি। রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন অবিচলভাবে।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে শেখ মানোয়ার আলী বলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনী সাফল্যের পর এখন বহু মানুষ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং বিজেপিতে যোগদানের আগ্রহ প্রকাশ করছেন। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিনের শাসনকালে তৃণমূল সরকার মুসলিম সমাজকে “তেজপাতার মতো ব্যবহার করেছে”—কাজ ফুরিয়ে গেলে তাদের গুরুত্ব দেয়নি। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, মুসলিম যুব সমাজকে নেশার দিকে ঠেলে দিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করা হয়েছে।
একইসঙ্গে তিনি অতীতের বামফ্রন্ট সরকারেরও সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, তফসিলি জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়কেও একসময় একইভাবে নেশার মধ্যে ডুবিয়ে রাখা হয়েছিল।
ভবিষ্যতের পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে আশাবাদী শেখ মানোয়ার আলী। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির শাসনকালে রাজ্যে কঠোর প্রশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে, তোলাবাজি বন্ধ হবে এবং সাধারণ মানুষ একটি সুস্থ পরিবেশ ফিরে পাবেন। তিনি মনে করেন, মুসলিমদের জন্য যেমন বহু মাদ্রাসা রয়েছে, তেমনি হিন্দুদের জন্যও আরও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে তোলা উচিত।
তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচনে মুসলিম সমাজ থেকেও বিজেপি কিছুটা সমর্থন পেয়েছে। আগামী দিনে তিনি নিজে মুসলিম সম্প্রদায়ের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিজেপির বার্তা পৌঁছে দেবেন বলেও অঙ্গীকার করেন।
রাজ্যের নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তাঁর দাবি, “এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গে প্রকৃত স্বাধীনতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।” পাশাপাশি তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্যে “দালাল রাজ” বন্ধ হবে এবং সব সম্প্রদায়ের মানুষের উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ থেকে আসা বিভিন্ন উস্কানিমূলক বক্তব্য নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শেখ মানোয়ার আলী। তাঁর মতে, পশ্চিমবঙ্গের শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে কঠোর অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন।



![]()

More Stories
জয়ের নেপথ্যের সংগঠক
১৫ বছর পর গোঘাটের সমবায় সংগঠনের ইউনিয়ন অফিস ফিরে পাচ্ছে সমবায় কর্মচারী সংগঠন
অদেখা লড়াই থেকে দৃশ্যমান জয়: গোঘাটে বিজেপি মহিলা মোর্চার নীরব সংগ্রামের কাহিনি