সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে আর.জি. কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে ঘিরে প্রকাশ্যে আসা সরকারি নথি এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট। প্রকাশ্যে আসা স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশিকায় দেখা যাচ্ছে, রাজ্যপালের অনুমোদনক্রমে সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম এবং মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য “Sanction of Prosecution” বা বিচারিক অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। এই নির্দেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সিবিআই ও ইডি তদন্তে প্রাথমিকভাবে দুর্নীতি দমন আইন, ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারা এবং পিএমএলএ আইনের আওতায় অপরাধের উপাদান পাওয়া গিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তাঁর পোস্টে সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে আক্রমণ করে দাবি করেছেন, পূর্ববর্তী সরকার “জোরপূর্বক ও অনৈতিকভাবে” তদন্ত প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন আটকে রেখেছিল। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, বর্তমান প্রশাসন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর এবং আর.জি. কর কাণ্ডে “বোন অভয়া”-র ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।প্রকাশিত নথিতে উল্লেখ রয়েছে, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পর তালা থানার এফআইআর সিবিআইয়ের হাতে যায় এবং পরে ইডি মানি লন্ডারিংয়ের তদন্ত শুরু করে। তদন্তে আর.জি. কর মেডিক্যাল কলেজে বিভিন্ন ক্রয় ও আর্থিক লেনদেনে অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে বলে নথিতে দাবি করা হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে বিচারিক অনুমতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, এর গভীর রাজনৈতিক তাৎপর্যও রয়েছে। কারণ আর.জি. কর কাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যে উত্তেজনা, প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক তরজা চলেছে। বিরোধীরা শুরু থেকেই অভিযোগ করছিলেন যে, প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা হয়েছে। অন্যদিকে শাসকদল বারবার দাবি করেছে, তদন্ত আইনি প্রক্রিয়া মেনেই চলছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, “Sanction of Prosecution” প্রদান হওয়া মানেই সরাসরি দোষী সাব্যস্ত হওয়া নয়। তবে এটি তদন্তকারী সংস্থাকে আদালতে মামলা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ আইনি ভিত্তি প্রদান করে। এখন আদালতের বিচার ও তদন্তের অগ্রগতির দিকেই নজর থাকবে। এই ঘটনাকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা আরও তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে আর.জি. কর কাণ্ডে নিহত তরুণী চিকিৎসকের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে বহু মানুষ দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছেন। রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেও এখন মূল প্রশ্ন— তদন্ত কত দ্রুত শেষ হবে এবং প্রকৃত দোষীরা আদৌ কঠোর শাস্তি পাবে কি না।

![]()

More Stories
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ডাবল ইঞ্জিন সরকারের গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ (৯ মে ২০২৬ – ১৬ মে ২০২৬)
টেলিকম রাইট অফ ওয়ে রুলস কার্যকর, বাংলায় ডিজিটাল পরিকাঠামোয় নতুন গতি
ওবিসি সংরক্ষণ মামলা প্রত্যাহারে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের বিজেপি সরকার