সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পিছনে যুব সমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে দাবি করলেন আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার বিজেপি যুব মোর্চার সভাপতি কার্তিক দত্ত। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, চাকরির অভাব, নিয়োগে অনিয়ম এবং কর্মসংস্থানের সংকটে রাজ্যের যুব সমাজ ক্রমশ হতাশ হয়ে পড়ছিল। সেই হতাশা থেকেই পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয় এবং যুব সমাজ নতুন রাজনৈতিক বিকল্পের দিকে ঝুঁকতে শুরু করে।
কার্তিক দত্ত জানান, শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রচার নয়, যুব সমাজের বাস্তব সমস্যাকে সামনে রেখে বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে ক্যাম্পেন চালিয়েছিল বিজেপি যুব মোর্চা। স্কুল, কলেজ, খেলার মাঠ, রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড—যেখানে যুব সমাজের উপস্থিতি বেশি, সেখানেই গিয়ে তাঁদের মতামত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “দেশ এবং জাতির মেরুদণ্ড হলো যুব সমাজ। যুবকদের চিন্তা, স্বপ্ন ও সমস্যাকে বুঝতে না পারলে কোনও পরিবর্তন সম্ভব নয়।” ভোটের আগে “চাকরি চাই বাংলা” নামে বিশেষ প্রচারাভিযান চালানো হয়েছিল বলেও জানান তিনি। তাঁর দাবি, এই কর্মসূচির মাধ্যমে বহু বেকার যুবক-যুবতী নিজেদের অভিজ্ঞতা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। চাকরি না পাওয়া, দুর্নীতির কারণে নিয়োগ আটকে যাওয়া এবং কাজের জন্য রাজ্যের বাইরে চলে যাওয়ার প্রবণতা যুব সমাজকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল বলে তাঁর মত।
কার্তিক দত্তের কথায়, “যে যুব সমাজ দেশের ভবিষ্যৎ, সেই যুব সমাজের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। ফলে সামাজিক অবক্ষয়ও বেড়েছে।”
যুব সমাজকে শুধু রাজনৈতিকভাবে নয়, মানসিক ও শারীরিকভাবে শক্তিশালী করে তোলার দিকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন বিজেপি যুব মোর্চার এই নেতা। তিনি জানান, শরীরচর্চা, যোগব্যায়াম, খেলাধুলা এবং মাঠমুখী সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর মতে, “অনুশাসন ছাড়া কোনও সাফল্য সম্ভব নয়। যুব সমাজকে মোবাইল ও মাদকদ্রব্য নেশা হতাশার অন্ধকার থেকে বেরিয়ে মাঠে, সমাজে এবং রাষ্ট্রচিন্তায় যুক্ত হতে হবে।”
কার্তিক দত্ত যুব সমাজকে ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানান। পরিবার ও রাজনৈতিক জীবনের ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “বৃহত্তর লক্ষ্যের জন্য ছোট ছোট স্বার্থ বিসর্জন দিতেই হয়।”
তিনি আরও বলেন, ভারতীয় সংস্কৃতি, পারিবারিক মূল্যবোধ ও গুরুজনদের সম্মান যুব সমাজের ভিতকে শক্তিশালী করে। তাঁর মতে, গীতা পাঠ, পূজা-অর্চনা এবং পারিবারিক অনুশাসন যুবকদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে সাহায্য করে।
ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন যে, যুব মোর্চাকে কোনওরকম হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “এমন কোনও কাজ করা চলবে না যাতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে “রাষ্ট্রবাদী ভাবধারা”র উত্থান যুব সমাজের কাছে গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে সেই আদর্শ রক্ষার জন্য শৃঙ্খলা, সংযম ও সামাজিক দায়বদ্ধতা অত্যন্ত জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কার্তিক দত্তের বক্তব্য অনুযায়ী, যুব মোর্চার মূল লক্ষ্য হলো হতাশাগ্রস্ত যুব সমাজকে ইতিবাচক পথে নিয়ে আসা। তাঁর কথায়, “আগের পরিস্থিতি যুব সমাজকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। এখন যুব সমাজকে আলোর পথ দেখানোই আমাদের লক্ষ্য।”
রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর রাজ্যের যুব সমাজের প্রত্যাশা যেমন বেড়েছে, তেমনই বেড়েছে দায়িত্বও। কর্মসংস্থান, শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও সামাজিক নেতৃত্ব—এই চারটি স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়েই আগামী দিনের বাংলা গড়ে উঠবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
![]()

More Stories
গরমে তালের রসের চাহিদা বাড়ছে, কীভাবে সংগ্রহ করা হয় এই প্রাকৃতিক পানীয়? পুষ্টির ভাণ্ডার নাকি স্বাস্থ্যের ঝুঁকি? জেনে নিন বিশেষজ্ঞদের মত
আরামবাগ পৌরসভার দুরবস্থা, দুর্নীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে মুখ খুললেন বিজেপি কাউন্সিলর বিশ্বজিৎ ঘোষ
অত্যাচার, হুমকি পেরিয়ে আজও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি”—আরামবাগে বিজেপির সংখ্যালঘু সেল সভাপতির বক্তব্য