সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: সরকারি, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত (Government Sponsored) এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত (Aided) স্কুলের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রাইভেট টিউশন করার অভিযোগের তদন্তে নড়েচড়ে বসল রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দপ্তর। বিকাশ ভবন থেকে জারি হওয়া এক নির্দেশিকায় রাজ্যের সমস্ত জেলার জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (DI)-দের অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।৪ জুন ২০২৬ তারিখে জারি হওয়া স্কুল শিক্ষা দপ্তরের প্রশাসনিক শাখার স্মারকে জানানো হয়েছে, এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে National Human Rights Commission (এনএইচআরসি)-র একটি নোটিশের ভিত্তিতে। সেখানে অভিযোগ করা হয়েছে যে, কিছু সরকারি স্কুলের শিক্ষক ২০০৯ সালের শিক্ষা অধিকার আইন (RTE Act)-এর ২৮ নম্বর ধারার স্পষ্ট বিধিনিষেধ অমান্য করে ব্যক্তিগত টিউশন বা কোচিং করাচ্ছেন। নোটিসে অভিযোগে আরও বলা হয়েছে যে, কিছু ক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার নম্বর বা শিক্ষাগত মূল্যায়ন নিয়ে ভয় দেখিয়ে প্রাইভেট টিউশনে যোগ দিতে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এর ফলে শুধু শিক্ষার্থীদের উপর মানসিক চাপই তৈরি হচ্ছে না, বরং শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। স্কুল শিক্ষা দপ্তর স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, RTE Act, 2009-এর ২৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী কোনো শিক্ষক ব্যক্তিগত আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে প্রাইভেট টিউশন বা ব্যক্তিগত শিক্ষাদান কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারেন না। এই বিধান কার্যকর করতে রাজ্য সরকার ২০১১ সালে একটি বিজ্ঞপ্তিও জারি করেছিল, যেখানে স্পষ্টভাবে সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া ২০১৮ সালের স্কুল শিক্ষা দপ্তরের আরেকটি বিজ্ঞপ্তির উল্লেখ করে বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষক ব্যক্তিগত লাভের জন্য প্রাইভেট টিউশনে যুক্ত হতে পারবেন না। তবে বিদ্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত রিমেডিয়াল বা সহায়ক শিক্ষাদান কর্মসূচিতে সহযোগিতা করতে পারবেন। নতুন নির্দেশিকায় জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকদের বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে বাস্তব তথ্য সংগ্রহ করতে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে। শিক্ষামহলের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি ও সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের কিছু শিক্ষকের প্রাইভেট টিউশন নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অনেক ক্ষেত্রে স্কুলের পাঠদানের তুলনায় ব্যক্তিগত কোচিংয়ের উপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, যার প্রভাব পড়ে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের উপর। অন্যদিকে শিক্ষক সংগঠনগুলির একাংশের দাবি, বিচ্ছিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে সামগ্রিকভাবে শিক্ষকদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা উচিত নয় এবং তদন্তের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা প্রয়োজন।এনএইচআরসি-র নোটিশ এবং শিক্ষা দপ্তরের এই নির্দেশের পর বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের শিক্ষা মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন নজর থাকবে জেলা প্রশাসনের তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে শিক্ষা দপ্তর কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

![]()

More Stories
পশ্চিমবঙ্গের গাঙ্গেয় সমভূমিতে আবিষ্কৃত হল হোভারফ্লাইয়ের দুই নতুন প্রজাতি
আপনার সরকার আপনার পাশে’ : নাগরিকদের অভিযোগ শুনতে নতুন উদ্যোগ রাজ্য সরকারের
সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে কড়া তদন্ত, বুধবার থেকে অন্নপূর্ণা যোজনার প্রথম কিস্তি