সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর চা শ্রমিকদের কল্যাণে শীঘ্রই চালু হতে চলেছে ‘প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক যোজনা’। কলকাতায় গতকাল এক সাংবাদিক বৈঠকে এই ঘোষণা করেন শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব অমিত কুমার।
তিনি জানান, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের চা শ্রমিকদের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কেন্দ্র সরকার এই বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দুই রাজ্যের জন্য মোট এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের জন্য প্রায় তিনশো কোটি টাকা নির্ধারিত হয়েছে।
সাংবাদিক বৈঠকে অমিত কুমার জানান, প্রকল্পটি মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে চা শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের উন্নয়নের জন্য কাজ করবে।
প্রকল্পের তিনটি প্রধান অংশ
১. চা শ্রমিক শিক্ষা যোজনা:
চা শ্রমিক পরিবারের শিশুদের জন্য উন্নত ও মানসম্পন্ন শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।
২. চা শ্রমিক স্বাস্থ্য যোজনা:
শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্য উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং চিকিৎসা সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে।
৩. চা শ্রমিক আশ্রয় যোজনা:
বাসস্থান ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে আবাসন ও পরিকাঠামোগত সুবিধা প্রদান করা হবে।
যুগ্ম সচিব অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের আমলে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় রাজ্যস্তরের কমিটি গঠন করা হয়নি। ফলে প্রকল্পের সুবিধা চা শ্রমিকদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত মাসে মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে একটি রাজ্যস্তরের কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই প্রকল্প রূপায়ণের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে বলে তিনি জানান।
চা শিল্পের সামগ্রিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে অমিত কুমার বলেন, দেশে ২০১৪-১৫ অর্থবর্ষে চায়ের উৎপাদন ছিল ১,১৫৭ মিলিয়ন কেজি, যা বর্তমানে বৃদ্ধি পেয়ে ১,৩৮২ মিলিয়ন কেজিতে পৌঁছেছে। ভারতের চা উৎপাদনের প্রধান কেন্দ্রগুলি হল আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু এবং কেরালা।
এদিকে, সি মুরুগান জানান, গত অর্থবর্ষে দেশ থেকে রেকর্ড পরিমাণ চা রপ্তানি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গত অর্থবর্ষে ২৮২.১১ মিলিয়ন কেজি চা রপ্তানি হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য ৮,৭১৮ কোটিরও বেশি টাকা।
বন্ধ চা বাগানগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিষয়টি ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের নজরে আনা হয়েছে এবং এ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
চা শ্রমিকদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আবাসন ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক যোজনা’ চালুর উদ্যোগ উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন চা বাগান এলাকায় নতুন আশার সঞ্চার করেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, প্রকল্পটি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত চা শ্রমিক পরিবারগুলির সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটতে পারে।

![]()

More Stories
রাজস্ব বৃদ্ধি ও আর্থিক সংস্কারে জোর, দপ্তরের দায়িত্ব নিয়েই বার্তা অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের
রাজ্যসভার সাংসদ পদে ইস্তফা সুস্মিতা দেবের, জল্পনা রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে
নিউটাউনের রাম মন্দিরে পুজো দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী