September 22, 2026

দীঘার জগন্নাথ মন্দির থেকে সরছে ‘ধাম’ শব্দ

ওড়িশার আপত্তির পর পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বড় সিদ্ধান্ত

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের নাম নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে মন্দিরের নাম থেকে ‘ধাম’ শব্দটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। নবান্নে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝির বার্তা নিয়ে আসা পুরীর সাংসদ সম্বিত পাত্রের সঙ্গে বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হয়। রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, দীঘার প্রকল্পটি মূলত একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে অনুমোদিত হয়েছিল। সরকারি নথিতে এর নাম ছিল ‘শ্রীশ্রী জগন্নাথ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’। পরবর্তীকালে ‘ধাম’ শব্দটি যুক্ত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। সনাতন ধর্মীয় ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা এবং ভক্তদের অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে ওই শব্দটি সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ওড়িশার বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন এবং সেখানকার রাজনৈতিক মহল দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিল যে ‘জগন্নাথ ধাম’ নামটি ঐতিহাসিকভাবে পুরীর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। হিন্দুধর্মের চারধামের অন্যতম তীর্থক্ষেত্র পুরীকে কেন্দ্র করেই এই মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে দীঘার মন্দিরের সঙ্গে ‘ধাম’ শব্দ ব্যবহার করলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে বলে তাদের অভিযোগ ছিল। এই প্রেক্ষাপটে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানান। তাঁর বার্তা নিয়ে পুরীর সাংসদ সম্বিত পাত্র নবান্নে পৌঁছন এবং রাজ্য সরকারের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর উভয় পক্ষই সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানসূত্র খুঁজে পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত দুই প্রতিবেশী রাজ্যের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিতর্কেরও অবসান ঘটবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, সমুদ্রতীরবর্তী পর্যটন কেন্দ্র দীঘায় নির্মিত জগন্নাথ মন্দিরটি ইতিমধ্যেই রাজ্যের অন্যতম আকর্ষণীয় ধর্মীয় ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। ভবিষ্যতে মন্দিরটি ‘জগন্নাথ মন্দির’ বা ‘জগন্নাথ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ নামেই পরিচিত হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।

Loading