এশিয়ার প্রথম ‘হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক’-এর প্রতিষ্ঠাতা পদ্মশ্রী ডা. আরমিদা ফার্নান্ডেজ

সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ ভারতের বিশিষ্ট শিশু ও নবজাতক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আরমিদা ফার্নান্ডেজ মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে এক অনন্য অবদানের জন্য বিশেষভাবে স্মরণীয়। তিনি এশিয়ার প্রথম ‘হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠা করে নবজাতক চিকিৎসার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী উদ্যোগের সূচনা করেছিলেন।

১৯৮৯ সালে লোকমান্য তিলক মিউনিসিপ্যাল জেনারেল হাসপাতাল (সিয়ন হাসপাতাল)-এ তাঁর উদ্যোগে এশিয়ার প্রথম মানবদুগ্ধ ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়। এই ব্যাংকের মাধ্যমে সুস্থ মায়েদের অতিরিক্ত বুকের দুধ সংগ্রহ করে তা প্রক্রিয়াজাত ও সংরক্ষণ করা হয় এবং যেসব নবজাতক বিভিন্ন কারণে মায়ের দুধ পায় না, বিশেষ করে অপরিণত (প্রিম্যাচিউর) বা অসুস্থ শিশুদের কাছে তা পৌঁছে দেওয়া হয়।

ডা. ফার্নান্ডেজ বিশ্বাস করতেন, মায়ের দুধই নবজাতকের জন্য সর্বোত্তম খাদ্য ও ওষুধ। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টার ফলে ভারতে মাতৃদুগ্ধ দান ও নবজাতক পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। পরবর্তীকালে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আরও বহু হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে তাঁর এই উদ্যোগ পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করে।

শিশুস্বাস্থ্য ও নবজাতক সেবায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে।

ডা. আরমিদা ফার্নান্ডেজের কর্মজীবন শুধু চিকিৎসা পরিষেবার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; তিনি মাতৃদুগ্ধ পান করানোর গুরুত্ব, নবজাতকের পুষ্টি এবং শিশু মৃত্যুহার কমানোর লক্ষ্যে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তাঁর অবদান আজও ভারতের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।

Loading