সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: আগামী ২০ জুন রাজ্যজুড়ে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে পালিত হবে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ (পশ্চিমবঙ্গ ডে)। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের ১০ জুন ২০২৬ তারিখের নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যের সমস্ত জেলা সদর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে এই দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালন করা হবে। এই দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য পশ্চিমবঙ্গের সৃষ্টি, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। ১৯৪৭ সালের ২০ জুন অবিভক্ত বাংলার আইনসভায় অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক ভোটাভুটির মাধ্যমে বাংলার একটি অংশকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত পৃথক প্রদেশ হিসেবে গঠনের পথ প্রশস্ত হয়। সেই ঐতিহাসিক ঘটনাকেই স্মরণ করে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এই দিবসের মাধ্যমে বাংলা বিভাজনের ইতিহাস, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের গঠন, বাঙালির সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার এবং সামাজিক সংহতির গুরুত্ব নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হবে। একইসঙ্গে মানুষের মধ্যে দায়িত্ববোধ, ভ্রাতৃত্ববোধ, ঐক্য ও সম্প্রীতির চেতনাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যও রয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে প্রতিটি জেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রদর্শনী, আলোচনা সভা, সেমিনার এবং গ্রন্থাগার ও জাদুঘরভিত্তিক জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। জেলা শাসককে সভাপতি করে বিশেষ উদযাপন কমিটি গঠন করা হবে, যেখানে প্রশাসন, পুলিশ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও তথ্য-সংস্কৃতি দপ্তরের প্রতিনিধিরা থাকবেন। পাশাপাশি সরকারি, সরকার-পোষিত ও সরকার-সহায়তাপ্রাপ্ত স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, পলিটেকনিক ও আইটিআই-সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ সমাবেশ, বক্তৃতা, প্রবন্ধ, বিতর্ক ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় শিক্ষামূলক প্রকাশনার উদ্যোগও নেওয়া হবে। পশ্চিমবঙ্গ দিবস শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক অনুষ্ঠান নয়, বরং বাংলার ইতিহাস, ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং আত্মপরিচয়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। বিশ্বায়নের যুগে যখন নতুন প্রজন্ম ধীরে ধীরে নিজেদের ঐতিহাসিক শিকড় থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, তখন এই দিবস তাদের কাছে বাংলার গৌরবময় অতীত, স্বাধীনতা সংগ্রাম, নবজাগরণ এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের পরিচয় তুলে ধরবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মাতঙ্গিনী হাজরা, ক্ষুদিরাম বসুসহ বাংলার অগণিত মনীষীর অবদান স্মরণ করার ক্ষেত্রেও এই দিবস বিশেষ তাৎপর্য বহন করবে। পশ্চিমবঙ্গ দিবস তাই কেবল একটি স্মরণ দিবস নয়, বরং বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আত্মমর্যাদার প্রতি নতুন করে অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার দিন। ২০ জুনের এই উদযাপন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিজেদের শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত করবে এবং পশ্চিমবঙ্গের সমৃদ্ধ উত্তরাধিকার সম্পর্কে গর্ববোধ জাগিয়ে তুলবে।



![]()

More Stories
রাজস্ব বৃদ্ধি ও আর্থিক সংস্কারে জোর, দপ্তরের দায়িত্ব নিয়েই বার্তা অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের
রাজ্যসভার সাংসদ পদে ইস্তফা সুস্মিতা দেবের, জল্পনা রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে
নিউটাউনের রাম মন্দিরে পুজো দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী