সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: দেশজুড়ে কোটি কোটি ব্যবহারকারীর জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রাম (Telegram) সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ায় নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৯এ ধারার অধীনে ভারতে টেলিগ্রামের পরিষেবা অস্থায়ীভাবে স্থগিত করা হয়েছে। সরকারের দাবি, মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা NEET-UG 2026-এ প্রশ্নফাঁস এবং জালিয়াতি চক্রের কার্যকলাপে টেলিগ্রাম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। সেই কারণেই পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তে উঠে এসেছে যে কিছু টেলিগ্রাম চ্যানেল ও গ্রুপের মাধ্যমে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, ভুয়ো প্রশ্নপত্র বিক্রি এবং পরীক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার মতো কার্যকলাপ চালানো হচ্ছিল। বিশেষভাবে টেলিগ্রামের “মেসেজ এডিট” ফিচার ব্যবহার করে প্রশ্নফাঁসের সময় ও প্রমাণকে বিকৃত করার অভিযোগও সামনে এসেছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলির মতে, এই প্রযুক্তিগত সুবিধার অপব্যবহার করে কিছু চক্র পরীক্ষার আগে থেকেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের দাবি করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছিল।
এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র সরকার ১৬ জুন থেকে ২২ জুন পর্যন্ত টেলিগ্রামের উপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য টেলিগ্রামের কিছু ফিচারের ব্যবহারেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, এই পদক্ষেপ কোনও স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা নয়; বরং তদন্ত এবং পরীক্ষার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে এটি একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা।
তবে সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা মহলে প্রশ্নও উঠেছে। সমালোচকদের মতে, কয়েকজন অপরাধীর কর্মকাণ্ডের জন্য কোটি কোটি সাধারণ ব্যবহারকারীকে ভোগান্তির মধ্যে ফেলা উচিত নয়। ব্যবসা, শিক্ষা, সংবাদ আদান-প্রদান এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগের ক্ষেত্রে টেলিগ্রাম একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। ফলে হঠাৎ পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বহু মানুষ সমস্যার মুখে পড়েছেন।
টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভও এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, একটি নির্দিষ্ট অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে গোটা প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করে দেওয়া সাধারণ ব্যবহারকারীদের শাস্তি দেওয়ার সামিল। তিনি দাবি করেন, অপরাধীরা সহজেই অন্য প্ল্যাটফর্মে সরে যেতে পারে, কিন্তু সাধারণ ব্যবহারকারীদের যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহার রোধ করা যেমন জরুরি, তেমনই নাগরিকদের যোগাযোগের অধিকার এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের স্বাধীনতার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণ প্ল্যাটফর্ম বন্ধ না করে নির্দিষ্ট চ্যানেল, গ্রুপ বা অপরাধমূলক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসছে।
বর্তমান নির্দেশ অনুযায়ী, টেলিগ্রামের উপর নিষেধাজ্ঞা সাময়িক এবং নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হলে পরিষেবা পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, ডিজিটাল যুগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভূমিকা যেমন বাড়ছে, তেমনি তার অপব্যবহার রোধে সরকার, প্রযুক্তি সংস্থা এবং ব্যবহারকারীদেরও আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল হতে হবে।

![]()

More Stories
দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা, প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় বড় সাফল্য
রাম মন্দিরে অনুদান আত্মসাতের অভিযোগে তদন্ত শুরু, অযোধ্যায় পৌঁছল SIT
ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার থেকে আত্মনির্ভরতার পথে: বদলে যাচ্ছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পরিচয়