চাকরি ছাড়লেন ভুয়ো তপশিলি জাতি শংসাপত্রের অভিযোগ থাকা সহকারী অধ্যাপক হৃদয় দালাল, প্রশাসনিক তদন্তের মাঝেই পদত্যাগ

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: ভুয়ো তপশিলি জাতি (এসসি) শংসাপত্রের ভিত্তিতে চাকরি লাভের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শেষ পর্যন্ত সহকারী অধ্যাপকের পদ থেকে পদত্যাগ করলেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ হুগলির অঘোরকামিনী প্রকাশচন্দ্র মহাবিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হৃদয় দালাল। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালে কলেজ সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে এসসি সংরক্ষিত বিভাগের মেধাতালিকায় স্থান পেয়ে তিনি চাকরিতে নির্বাচিত হন এবং ২০১৯ সালের ১ নভেম্বর সহকারী অধ্যাপক পদে যোগদান করেন। তবে তাঁর তপশিলি জাতির শংসাপত্রের বৈধতা নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। পূর্ব বর্ধমানের সদর (দক্ষিণ) মহকুমা শাসকের কার্যালয় থেকে জারি হওয়া একটি নোটিস অনুযায়ী, জাল নথি এবং মিথ্যা রক্তসম্পর্ক দেখিয়ে তপশিলি জাতির শংসাপত্র সংগ্রহের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি শুনানির ব্যবস্থা করা হয়। অভিযোগকারী হিসেবে তমোঘ্না দাসের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অভিযুক্ত হিসেবে হৃদয় দালাল-সহ তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্যের নাম নথিভুক্ত করা হয়। নির্দিষ্ট তারিখে প্রয়োজনীয় নথিপত্র-সহ উপস্থিত থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়। সম্প্রতি অঘোরকামিনী প্রকাশচন্দ্র মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষের উদ্দেশে লেখা এক চিঠিতে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট অধ্যাপক পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগপত্রে তিনি কলেজ কর্তৃপক্ষ, সহকর্মী এবং ছাত্রছাত্রীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। কলেজ কর্তৃপক্ষও তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা বা আইনগত দায় নির্ধারণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ এবং আদালতের উপর নির্ভরশীল, তবুও এই ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি কেউ এ ধরনের অনিয়ম করেন তাহলে প্রকৃত তপশিলি জাতিভুক্ত প্রার্থী ও সুবিধাভোগীদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করে এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের মূল উদ্দেশ্যকে আঘাত করে। যাঁরা ভুয়ো শংসাপত্র বা বেআইনি উপায়ে চাকরি ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা অর্জন করেছেন, তাঁদের উচিত স্বেচ্ছায় সেই সুবিধা পরিত্যাগ করা।

Loading