স্কুল পুলকারে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কড়া পদক্ষেপ প্রশাসনের

সড়ক নিরাপত্তায় সচেতনতা বাড়াতে আরামবাগ মহকুমা প্রশাসনের উদ্যোগ, জারি হল একাধিক নির্দেশিকা

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: স্কুল পড়ুয়াদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে এবং সুপ্রিম কোর্টের সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশিকা কার্যকর করতে উদ্যোগী হয়েছে আরামবাগ মহকুমা প্রশাসন। এই লক্ষ্যে মহকুমা শাসকের দপ্তরের পক্ষ থেকে স্কুল কর্তৃপক্ষ, অভিভাবক এবং পুলকার চালকদের জন্য একাধিক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি আজ  দুপুর ১২টায় আরামবাগ মহকুমা শাসকের কার্যালয়ের ‘দিশা’ সভাকক্ষে একটি বিশেষ রোড সেফটি অ্যাওয়ারনেস মিটিং-এর আয়োজন করা হয়েছিল। উপস্থিত ছিলেন মহাকুমার বিভিন্ন আধিকারিক, আরামবাগ এআরটিও, আরামবাগ ট্রাফিক ওসি, বিভিন্ন স্কুলের প্রতিনিধি ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকরা।

 বৈঠকে স্কুল পুলকারের ফিটনেস, বাণিজ্যিক পারমিট, ট্যাক্স, বীমা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ (PUC), চালকের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির শারীরিক অবস্থা এবং চালকের শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

প্রশাসনের প্রচারপত্রে স্কুলবাস ও পুলকার পরিচালনার ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিটি গাড়ির বৈধ কমার্শিয়াল পারমিট, ফিটনেস সার্টিফিকেট (CF), ট্যাক্স, ইনস্যুরেন্স এবং PUCবাধ্যতামূলক। গাড়ির বাইরে স্পষ্টভাবে “ON SCHOOL DUTY” লেখা বোর্ড থাকতে হবে এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী নির্দিষ্ট রঙের চিহ্ন ব্যবহার করতে হবে।

শিশুদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে প্রতিটি আসনে সিটবেল্ট, প্রাথমিক চিকিৎসার ফার্স্ট-এইড বক্স, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, সচল প্যানিক বাটন, VLTD (Vehicle Location Tracking Device) এবং স্পিড লিমিটিং ডিভাইস (SLD) রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। চালকের মোবাইল ব্যবহার, মদ্যপ বা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং নির্ধারিত রুটের বাইরে গাড়ি পরিচালনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, পুলকারে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা যাবে না এবং কোনও অবস্থাতেই গাড়ির ধারণক্ষমতার বেশি শিশু তোলা যাবে না। প্রতিটি গাড়িতে চালক ও সহকারীর পূর্ণাঙ্গ পরিচয়, ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর সংরক্ষিত রাখতে হবে। একজন মহিলা অ্যাটেনডেন্ট থাকলে ছোট শিশুদের ওঠানামা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আরও সহজ হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিভাবকদের জন্যও একাধিক পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সন্তানকে কেবলমাত্র অনুমোদিত ও তালিকাভুক্ত পুলকারে পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। গাড়ির সমস্ত নথি বৈধ কি না, চালকের লাইসেন্স রয়েছে কি না এবং গাড়িতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর আছে কি না, তা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চালক ও সহকারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সচেতনতা শিবির এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করার কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া ছাত্রছাত্রীদের মধ্যেও সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে স্কুলে নিয়মিত কর্মশালা ও প্রচারাভিযান চালানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। ট্রাফিক আইন, সিটবেল্ট ব্যবহারের গুরুত্ব, অতিরিক্ত গতির ঝুঁকি এবং নিরাপদ যাতায়াতের অভ্যাস সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের অবহিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

প্রশাসনের মতে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু সরকারি নজরদারি নয়, স্কুল, অভিভাবক, চালক এবং পরিবহন কর্তৃপক্ষ— সকলের সম্মিলিত দায়িত্ব রয়েছে। সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্কুলপড়ুয়া শিশুদের যাতায়াত আরও নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Loading