সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সরকারি হাসপাতাল ও বিদ্যালয়গুলিতে সরবরাহ করা খাবারের মান উন্নয়নের লক্ষ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তর এবং স্কুল শিক্ষা দপ্তরের পৃথক সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী ১ আগস্ট, ২০২৬ থেকে সরকারি হাসপাতালের ভর্তি রোগীদের জন্য দৈনিক খাদ্য বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হচ্ছে। পাশাপাশি পিএম পোষণ (মিড-ডে মিল) প্রকল্পের আওতায় প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের রান্নার খরচও বাড়ানো হয়েছে। মূল্যবৃদ্ধির বর্তমান পরিস্থিতিতে খাদ্যের গুণগত মান বজায় রাখা এবং রোগী ও শিশুদের আরও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের জন্য এতদিন দৈনিক ‘ফুল রাইস ডায়েট’-এর বরাদ্দ ছিল ৫৬ টাকা ৬৪ পয়সা। বাজারদরের ঊর্ধ্বগতির কারণে দীর্ঘদিন ধরেই এই বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি উঠছিল। বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য গঠিত কমিটির সুপারিশ এবং কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের ভিত্তিতে রাজ্য সরকার রোগীদের দৈনিক ডায়েটের খরচ বাড়িয়ে ১১০ টাকা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থাৎ, প্রায় দ্বিগুণ বরাদ্দের ফলে সরকারি হাসপাতালের রোগীরা উন্নত মানের, সুষম ও পুষ্টিকর খাবার পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই নতুন হার ১ আগস্ট, ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।
অন্যদিকে, স্কুল শিক্ষা দপ্তরের নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, পিএম পোষণ প্রকল্পের আওতায় প্রাক-প্রাথমিক (বালবাটিকা) ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য দৈনিক রান্নার খরচ ৬ টাকা ৭৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রতিটি ছাত্রছাত্রীর জন্য অতিরিক্ত ৩ টাকা ২২ পয়সা ব্যয় করবে রাজ্য সরকার। এই অতিরিক্ত অর্থ সম্পূর্ণভাবে রাজ্যের তহবিল থেকে বহন করা হবে এবং এটিও ১ আগস্ট, ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। সরকারের মতে, এই বাড়তি বরাদ্দের ফলে বিদ্যালয়ে পরিবেশিত খাবারের মান, পুষ্টিগুণ ও বৈচিত্র্য আরও উন্নত হবে, যা শিশুদের সুস্বাস্থ্য ও মেধা বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
রাজ্য সরকারের দাবি, সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের রোগী এবং শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নতমানের খাদ্য নিশ্চিত করাই এই সিদ্ধান্তের প্রধান লক্ষ্য। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় আগের বরাদ্দে মানসম্পন্ন খাবার সরবরাহ করা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছিল। উল্লেখযোগ্যভাবে, সরকারি হাসপাতালের রোগীদের খাদ্য বরাদ্দের হার ২০১৭ সালের পর আর সংশোধন করা হয়নি। প্রায় নয় বছর পর সেই হার পুনর্বিবেচনা করে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি করা হলো।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে ওষুধের পাশাপাশি পুষ্টিকর ও সুষম খাদ্যের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে, বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য মানসম্পন্ন মধ্যাহ্নভোজ তাদের শারীরিক বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, একাগ্রতা ও শিক্ষার মান উন্নত করতে সহায়ক। ফলে সরকারের এই সিদ্ধান্ত জনস্বাস্থ্য ও শিশু পুষ্টি—দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আগামী ১ আগস্ট, ২০২৬ থেকে এই দুটি সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর রাজ্যের সরকারি হাসপাতালের রোগী এবং প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী সরাসরি এর সুফল পাবেন। জনকল্যাণমূলক এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে পুষ্টি-নির্ভর পরিষেবা আরও শক্তিশালী করার দিকেই এগোচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।


![]()

More Stories
কলকাতার শিশির মঞ্চে ‘নির্ভীক সাংবাদিক সম্মান’ প্রদান, আরামবাগ টিভির শফিকুল ইসলাম সম্মানিত
অভিন্ন দেওয়ানি বিধির খসড়া বিল পর্যালোচনায় ৯ সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন, চেয়ারপার্সন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাই
সোমবার থেকে রাজ্যে কার্যকর হচ্ছে গুন্ডা দমন আইন, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী; ইউসিসি নিয়েও বড় ঘোষণা