আরামবাগ প্রশাসনিক জেলা গঠন নিয়ে হুগলিতে উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক, প্রশাসনিক রূপরেখা নিয়ে জোর আলোচনা

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: আরামবাগকে নতুন প্রশাসনিক জেলা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে শুক্রবার হুগলি জেলা শাসকের ভবনের সর্বশিক্ষা মিশন হলে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আরামবাগ মহকুমার সমস্ত বিধায়ক এবং হরিপাল ও তারকেশ্বরের বিধায়ক, বিভিন্ন দফতরের ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক আধিকারিক এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তারা উপস্থিত ছিলেন। হুগলি জেলার জেলাশাসক খুরশিদ আলী কাদরীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সম্ভাব্য নতুন জেলার প্রশাসনিক কাঠামো, সরকারি দফতরের অবস্থান, পরিকাঠামো এবং জনপরিষেবা সম্প্রসারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

প্রশাসনিক সূত্রের খবর, নতুন জেলার সীমানা ও প্রশাসনিক বিন্যাস নিয়ে একাধিক সম্ভাব্য প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। সূত্রের দাবি, হুগলি জেলার আরামবাগ, গোঘাট, খানাকুল-১ ও খানাকুল-২ ব্লকের পাশাপাশি হরিপাল ও তারকেশ্বরের কিছু অংশ, বাঁকুড়া জেলার কোতুলপুর থানা এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণা এলাকার কিছু অংশকে নতুন আরামবাগ জেলার অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এই বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।

জেলা সদর দফতরের অবস্থান নিয়েও বিভিন্ন সম্ভাব্য প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি। মায়াপুর থেকে গোঘাট–ভিকদাস এলাকার মধ্যে কোনও স্থানে জেলা প্রশাসনিক ভবন স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনায় থাকতে পারে। একই সঙ্গে পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয় গোঘাট এলাকায় গড়ে তোলার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। এছাড়া কামারপুকুরকে নতুন একটি মহকুমা হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা এবং খানাকুল-১, খানাকুল-২, আরামবাগ শহর ও আরামবাগ গ্রামীণ এলাকা নিয়ে সদর মহকুমা গঠনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

গোঘাটের বিধায়ক প্রশান্ত দিগার প্রস্তাব রাখেন ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকেও আরামবাগের গুরুত্ব রয়েছে। ইতিহাসবিদদের মতে, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মের সময় তাঁর জন্মস্থান বীরসিংহ তৎকালীন জাহানাবাদ প্রশাসনিক এলাকার অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার সঙ্গে বর্তমান আরামবাগ অঞ্চলের ঐতিহাসিক যোগসূত্র রয়েছে। একইভাবে, বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্রে উল্লেখ রয়েছে যে শ্রীশ্রী মা সারদা দেবীর জন্মস্থান জয়রামবাটীও অতীতে হুগলি জেলার প্রশাসনিক সীমার অন্তর্ভুক্ত ছিল। ফলে নতুন জেলা গঠনের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যও গুরুত্ব পাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, নতুন আরামবাগ জেলা গঠিত হলে বর্তমান হুগলি জেলার ভৌগোলিক ও প্রশাসনিক পরিধিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। এর ফলে হুগলি জেলার বিধানসভা কেন্দ্রের সংখ্যাও কমে বর্তমানে ১৮ থেকে সম্ভাব্য ১১-এ নেমে আসতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে আলোচনা রয়েছে। যদিও এই বিষয়েও এখনও সরকারিভাবে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি।

উল্লেখ্য, নতুন প্রশাসনিক জেলা গঠনের উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা আরও দ্রুত ও সহজলভ্য করে তোলা, প্রশাসনিক কাজের গতি বৃদ্ধি এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। এদিনের বৈঠককে সেই প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে প্রশাসনিক মহল। তবে জেলার সীমানা, সদর দফতর, মহকুমা ও থানার চূড়ান্ত বিন্যাস রাজ্য সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে।

Loading