সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: সুরের সঙ্গে আধ্যাত্মিকতার মেলবন্ধন, তালের সঙ্গে ভক্তির আবেগ—বিশ্বকর্মা পুজো উপলক্ষে গোঘাটের ভাদুরে তিলডাঙ্গা মাঠে যেন তৈরি হল আধ্যাত্মিকতার মেলবন্ধনে এক অন্য ছবি। মেলা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হল কাওয়ালি ও সুফি গানের বিশেষ আসর। আর সেই আসরে সুরের মাধ্যমে ধর্মের গণ্ডি পেরিয়ে মানবপ্রেম ও ঐক্যের বার্তা দিলেন সুফি গায়ক মোঃ নাসির ঝংকার। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মহিলা সুফি শিল্পী টুসী রানী।
কাওয়ালি মূলত সুফি ভাবধারার সঙ্গে যুক্ত এক সংগীতধারা। আধ্যাত্মিক প্রেম, ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি, আত্মশুদ্ধি ও মানবপ্রেমের কথা সুরের মাধ্যমে তুলে ধরাই এই সংগীতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বিশ্বকর্মা পুজোর মেলায় সেই কাওয়ালিই যেন হয়ে উঠল হিন্দু-মুসলিম ধর্মের আধ্যাত্মিকতার এক জীবন্ত ভাষা।
তিলডাঙ্গা মাঠে কাওয়ালির আসর বসতেই ভিড় জমে যায় এলাকার মানুষজনের। পুরুষ থেকে মহিলা—ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বহু মানুষ মেতে ওঠেন গানের সুরে। হারমোনিয়ামের সুর, সঙ্গতে তবলা, ঢোলক আর বুলবুল তরঙ্গ বা ব্যঞ্জন, তাল-লয়ের সঙ্গে শিল্পীর কণ্ঠে একের পর এক আধ্যাত্মিক গান ছুঁয়ে যায় শ্রোতাদের মন।
নাসির ঝংকার তাঁর গানের মাধ্যমে তুলে ধরেন ধর্মের মেলবন্ধনের বার্তা। তাঁর কথায়, ‘র’ দিয়ে যেমন রাম, তেমনই ‘র’ দিয়ে রহিম। নাম আলাদা হলেও সৃষ্টিকর্তার প্রতি মানুষের ভালোবাসার অনুভূতি একই। বিশ্বকর্মাকে কেন্দ্র করেও তিনি বলেন—বিশ্বকর্মা অর্থাৎ এই বিশ্বের কারিগর। সেই ভাবনাকে সামনে রেখেই তিনি গানে তুলে ধরেন ঈশ্বরের সর্বজনীনতার কথা।
শুধু তাই নয়, তাঁর পরিবেশনায় উঠে আসে—‘ম’ দিয়ে মানব, ‘ম’ দিয়ে মা, ‘ম’ দিয়ে মথুরা, আবার ‘ম’ দিয়েই মোহাম্মদ, মক্কা-মদিনা’—শব্দের এই মিলকে কেন্দ্র করে তিনি মানুষের মধ্যে বিভেদ নয়, ঐক্যের বার্তা দেন।
অনুষ্ঠানের শেষে নাসির ঝংকারের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, প্রায় ৪০ বছর ধরে তিনি সুফি গানের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর কথায়, সুফি সংগীত শুধুমাত্র গান নয়, এটি আধ্যাত্মিকতার একটি পথ। গুরু ও ভক্তির প্রতি বিশ্বাস থেকেই এই সংগীতের প্রতি তাঁর গভীর টান তৈরি হয়েছে।
নাসির ঝংকার জানান, কর্মজীবনে প্রেরণা পেয়েই তিনি সুফি সংগীতের জগতে প্রবেশ করেন। বিরামপুর এলাকার একাধিক কাওয়ালি শিল্পীর কাছ থেকেও তিনি শিক্ষা নিয়েছেন। তাঁর মতে, কাওয়ালি সম্পূর্ণভাবে সুফি ভাবধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত। সংগীতের মাধ্যমে যে কথা মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে দেওয়া যায়, অনেক সময় অন্য কোনও মাধ্যমে তা এত সহজে বলা সম্ভব হয় না।
বিশ্বকর্মা পুজোর মেলার এই কাওয়ালির আসর তাই শুধুই বিনোদনের অনুষ্ঠান হয়ে থাকেনি। সুর, ভক্তি ও আধ্যাত্মিকতার মধ্য দিয়ে সেখানে উঠে এসেছে মানবতার বার্তা এবং ধর্মীয় আধ্যাত্মিকতার এক সুন্দর ছবি। মেলার মাঠে একসঙ্গে বসে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের কাওয়ালি শোনা যেন প্রমাণ করল—সুরের কোনও বিভাজন নেই, আধ্যাত্মিকতারও কোনও সীমারেখা নেই।


![]()

More Stories
মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুক পোস্ট, গোঘাট থানায় অভিযোগ—যুবক আটক
বাঁশের কঞ্চির ছিপ থেকে আধুনিক চারা,রিল—বদলে গিয়েছে মাছ ধরার সরঞ্জামের দুনিয়া
স্বর্গীয় বলরাম ঘোষের জন্মশতবর্ষে বাজুয়া হাই স্কুলের কাবাডি ও ফুটবল প্রতিযোগিতা