সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক হিংসায় নিহতদের স্মরণে আজ ১৬ আগস্ট কলকাতার সন্তোষপুর লেকে ‘গণতর্পণ’-এর আয়োজন করা হয়েছে। ১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্ট ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস’কে কেন্দ্র করে কলকাতা-সহ অবিভক্ত বাংলার বিভিন্ন এলাকায় যে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়িয়ে পড়েছিল, সেই ঘটনায় নিহতদের স্মরণ ও তাঁদের আত্মার শান্তি কামনায় আজ এই কর্মসূচির আয়োজন বলে উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, ১৯৪৬ সালের ওই ঘটনায় বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন এবং বহু মানুষ গৃহহীন ও উদ্বাস্তু হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে নোয়াখালী-সহ অবিভক্ত বাংলার বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত সাম্প্রদায়িক হিংসাতেও বহু মানুষ নিহত ও বাস্তুচ্যুত হন। সেই সমস্ত নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্মৃতিকে সামনে রেখে তাঁদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতেই এই কর্মসূচি।
উদ্যোক্তাদের তরফে জানানো হয়েছে, আজ সকাল ৯টায় সন্তোষপুর লেকে এই গণতর্পণ অনুষ্ঠিত হবে। ‘দি হিন্দু মিশন’ এবং ব্রহ্মময়ী মহাকালি আশ্রমের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সাধু-সন্ত ও সাধারণ নাগরিকদের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। কর্মসূচির তত্ত্বাবধানে থাকবেন যাদবপুর বিধানসভার বিধায়িকা শর্বরী মুখার্জি। অনুষ্ঠানে ‘দি হিন্দু মিশন’-এর গ্লোবাল চেয়ারপারসন স্বামী ডঃ সুন্দর গিরী মহারাজ এবং ব্রহ্মময়ী মহাকালি আশ্রমের সভাপতি স্বামী জয়দেবানন্দ তীর্থনাথ মহারাজ-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিত থাকার কথা।
উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, ইতিহাসের বেদনাদায়ক অধ্যায়গুলিকে ভুলে যাওয়া নয়, বরং অতীতের ঘটনাগুলি স্মরণ করে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সেই ইতিহাস তুলে ধরাই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। তাঁদের মতে, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সাম্প্রদায়িক হিংসার শিকার সকল মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিকতার বার্তা পৌঁছে দেওয়া বর্তমান সময়ে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্ট থেকে কলকাতায় শুরু হওয়া সাম্প্রদায়িক হিংসা পরবর্তী সময়ে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। ইতিহাসে এই সময়কাল ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ এবং পরবর্তী নোয়াখালী হিংসার মতো ঘটনাবলির সঙ্গে যুক্ত। সেই অশান্ত সময়ের নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্মৃতিকে সামনে রেখেই ৮০ বছর পর এই স্মরণসভা ও গণতর্পণের আয়োজন করা হচ্ছে বলে উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
আজ ১৬ আগস্ট সকাল ৯টায় সন্তোষপুর লেকে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষকে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। তাঁদের আশা, অতীতের সেই রক্তাক্ত ইতিহাস স্মরণ করে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিকতার বার্তা আরও বিস্তৃত হবে।


![]()

More Stories
অভয়ার দেহ সৎকারের অভিযোগে নির্মল ঘোষ ৮ দিনের পুলিশ হেফাজতে
কন্যারত্ন প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা দ্বিগুণ
আবাস প্লাসের সমীক্ষা শেষের মুখে, যোগ্যদের দ্রুত তথ্য জানানোর আবেদন পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের