সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ ভারতের ইঞ্জিনিয়ারিং ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায়ের নাম হয়ে উঠেছে চেনাব ব্রিজ। বিশ্বের সর্বোচ্চ এই রেলসেতুটি শুধুই প্রযুক্তির কীর্তি নয়, এর প্রতিটি ইঞ্চিতে রয়েছে মানুষের কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং নিষ্ঠার ছাপ। এই সেতুর নেপথ্যে যিনি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, সেই রক ইঞ্জিনিয়ারিং বিশেষজ্ঞ ও প্রজেক্ট নেতৃত্বদানকারী জি. মাধবী লাথা এখন অনুপ্রেরণার প্রতীক।
বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলসেতু—চেনাব ব্রিজ
অবস্থান: চন্দ্রভাগা (চেনাব) নদীর উপর, জম্মু ও কাশ্মীরের কাটরা ও কাজিগুন্ডের মধ্যে।
উচ্চতা: নদীর জলস্তর থেকে ৩৫৯ মিটার – যা আইফেল টাওয়ার থেকেও উঁচু।
দৈর্ঘ্য: পুরো সেতু ১,৩১৫ মিটার, এর মধ্যে আর্চ অংশটি ৭৮৫ মিটার।
উদ্বোধন: ২০২৫ সালের ৪ঠা জুন, বৃহস্পতিবার।
স্থায়িত্ব: নির্মাতাদের মতে, এই সেতু আগামী ১২০ বছর টিকে থাকবে।
এই রেলসেতু শুধু পাহাড়কেই যুক্ত করেনি, বরং মানুষের আত্মবিশ্বাস ও মেধার জয়কেও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেছে।
নেপথ্যে যিনি—ইঞ্জিনিয়ার জি. মাধবী লাথা
চেনাব ব্রিজ প্রকল্পের পরিকল্পনা শুরু হয় ২০০৫ সালে। এরপর টানা গবেষণা, ডিজাইন ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ২০১৭ সালে মূল নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং তা ২০২২ সালে সম্পূর্ণ হয়। এর প্রতিটি ধাপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন মাধবী।
তিনি ছিলেন প্রকল্পের প্রধান রক ইঞ্জিনিয়ারিং পরামর্শদাতা ও টিম লিডার, যিনি সেতুর স্ট্যাবিলিটি, শিলাস্তরের সংযুক্তি ও মাটি সংক্রান্ত জটিল বিষয়গুলো সফলভাবে নিরীক্ষা ও পরিচালনা করেছেন।
মাধবী লাথার শিক্ষাগত ও পেশাগত পরিচিতি
- স্নাতক: জেএনটি ইউনিভার্সিটি, হায়দরাবাদ (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং)
- এম.টেক: এনআইটি ওয়ারাঙ্গল
- পিএইচডি: আইআইটি মাদ্রাজ
- পোস্ট ডক্টরাল গবেষণা: আইআইএসসি, ব্যাঙ্গালোর (২০০২-২০০৩)
- সহকারী অধ্যাপক: আইআইটি গুয়াহাটি (২০০৩-২০০৪)
- বর্তমানে: প্রফেসর, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স (IISc), ব্যাঙ্গালোর
তিনি মাটি শক্তিশালীকরণ, শিয়ার মেকানিজম, এবং ভূ-সংযুক্তির মাইক্রো স্তরের গবেষণা নিয়ে কাজ করেছেন। তাঁর গবেষণা ভারতের ভূপ্রকৌশল ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।

![]()

More Stories
লখনউ ডিভিশনে ৬০০ কিলোমিটারের বেশি রেলপথে বসছে কবচ ৪.০
মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে পৌঁছল ৪০ লক্ষ লিটারের বেশি ডিজেল
EPFO-র আওতায় আসার বেতনসীমা ১৫ হাজার থেকে বেড়ে ২৫ হাজার, উপকৃত হবেন ৫১ লক্ষের বেশি কর্মী