সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ বর্তমান সমাজে বহু মধ্যবিত্ত পরিবার এমন এক সংকটে জর্জরিত, যার মুখোমুখি হয়ে মানুষ মুখে হাসি রাখলেও ভিতরে ধ্বসে পড়েন নিঃশব্দে। বিশেষ করে পরিবারে একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি, যিনি সংসারের যাবতীয় দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে লড়াই করে চলেছেন—তার কষ্ট, হতাশা আর ভয় অনুধাবন করা অনেক সময় বাইরের মানুষের পক্ষে অসম্ভব।
বেকারত্ব, কমে আসা উপার্জন, ঋণের বোঝা, কিংবা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশঙ্কায় তিনি এমন এক মানসিক চাপে পড়ে যান, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ক্ষয় ডেকে আনে। এমনকি কোনো আগাম বার্তা ছাড়াই হৃদরোগে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এই বাস্তবতা উপলব্ধি করে নিচে তুলে ধরা হলো অপ্রত্যাশিত আর্থিক সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ও বাস্তব পরামর্শ:
পরিবারকে জানানোই প্রথম সাহস
পরিবারকে আড়ালে রেখে পরিস্থিতি মোকাবিলা করলে শুধু চাপ বাড়বে। বরং সমস্যা শেয়ার করলে সবাই মিলে পথ খুঁজে বের করা সম্ভব। একা না থেকে একসাথে লড়াই করাটাই টিকে থাকার মূলমন্ত্র।
জীবনযাত্রায় নাটকীয় পরিবর্তন আনুন
মধ্যবিত্ত ইগোর কারণে অনেক অপ্রয়োজনীয় খরচ থেকে যায়। এখন সময় নিজেকে “স্মার্ট” ভাবে টিকিয়ে রাখার—বাড়ি বদল, গাড়ি বিক্রি, খরচ কমানো—সবকিছু বিবেচনায় নিন। কারো মন্তব্যে পাত্তা না দিয়ে নিজের পরিবার বাঁচান।
সন্তানের শিক্ষা খরচ বাস্তবসম্মত করুন
উচ্চমূল্যের স্কুল বা টিউশন বাদ দিন। ভালো ফলাফলের জন্য নাম নয়, সঠিক নির্দেশনা প্রয়োজন। নিজে সময় দিয়ে সন্তানকে পড়ান—এতে খরচ কমবে এবং সন্তানও উপকৃত হবে।
শরীরের প্রতি নজর দিন, বিশেষত হার্টের যত্ন নিন
বুক ধড়ফড় করা, শ্বাসকষ্ট বা ঘুমের সমস্যা হালকা ভাববেন না। সময়মতো ইসিজি, রুটিন চেকআপ ও ডাক্তারের পরামর্শ নিন। মানসিক চাপই সবচেয়ে বড় শত্রু।
ভাইবোনদের সঙ্গে খোলামেলা আলাপ করুন
রক্তের সম্পর্কের মূল্য দুঃসময়ে বোঝা যায়। টাকা গেলে ফেরত আসতে পারে, কিন্তু সম্পর্ক ভেঙে গেলে তা আর ফিরিয়ে আনা যায় না। একে অপরের পাশে থাকুন।
পরিবারকে একটি আর্থিক ইউনিটে পরিণত করুন
সবাই মিলে যদি সম্মিলিতভাবে খরচ নিয়ন্ত্রণ ও আয় বৃদ্ধির উপায় খোঁজে, তাহলে অনেক সমস্যার সহজ সমাধান সম্ভব। পরিবারিক ঐক্যই এমন সংকটে মূল ওষুধ।
বন্ধুদের জানান, সম্পর্কের আসল পরিচয় এখনই
ভালো বন্ধু মানে শুধু আড্ডার সঙ্গী নয়—প্রয়োজনে পাশে থাকা মানুষ। বন্ধুরা মিলেও যদি কেউ সমস্যায় থাকে, তাহলে তাকে “বেইল আউট” করার উদ্যোগ নিন।
নতুন আয়ের পথ খুঁজুন
চাকরির বাইরেও আয় সম্ভব। টিউশন, অনলাইন কাজ, কৃষিকাজ, হোমমেড খাবার বিক্রি, সেলাই কাজ—সমস্ত বিকল্প খোলা রাখুন। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষ কখনো হারায় না।
অ্যালামনাই এবং পুনর্মিলনী যেন সামাজিক দায়িত্ব নেয়
প্রতি বছর লাখ টাকা খরচ করা অ্যালামনাই প্রোগ্রামগুলো যেন বিপদে থাকা সদস্যদের পাশে দাঁড়ায়। নয়তো এগুলো নিছক বাহারি আয়োজনেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
বাড়ির উপার্জনকারীকে ভালোবাসুন, চাপ নয়
তিনি নিঃসঙ্গ শেরপা। পুরো পরিবার টানছেন নিজের কাঁধে। তাঁর মুখের হাসির পেছনে জমে থাকা কষ্ট বুঝুন। সহমর্মিতা, ভালোবাসা ও যত্নই তাকে নতুন করে বাঁচতে সাহায্য করবে।

![]()

More Stories
অফিসে ৩০ মিনিটের ‘হস্তমৈথুন বিরতি’! সংস্থার সিদ্ধান্তে নাকি আরও তরতাজা কর্মীরা
হিমালয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল আখরোট: স্বাস্থ্য ও পরিবেশ—দু’দিকেই উপকারী
আগামী ১০–১৫ বছরে হারিয়ে যেতে পারে একটি প্রজন্ম