February 5, 2026

দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি

সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ আজ ১৬ জুন, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের ১০০তম প্রয়াণ দিবস। বাংলার এই মহান সন্তান, যিনি ছিলেন একজন ব্যতিক্রমী আইনজীবী, উদার চিন্তাধারার রাজনীতিক, এবং ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্রদূত—তাঁর স্মৃতির প্রতি আজ গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছে সমগ্র দেশ।

দার্জিলিংয়ে ১৯২৫ সালের এই দিনেই মাত্র ৫৫ বছর বয়সে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর প্রয়াণে ভারতবর্ষ এক সাহসী কণ্ঠ হারিয়েছিল, যে কণ্ঠ বারবার উচ্চারিত হয়েছিল জাতির মুক্তির স্বপ্নে।

চিত্তরঞ্জন দাশ ঢাকার বিক্রমপুরের (বর্তমান বাংলাদেশের মুন্সীগঞ্জ জেলা) টঙ্গীবাড়ী উপজেলার তেলিরবাগ গ্রামের যদুনন্দন বংশে এক উচ্চ মধ্যবিত্ত বাঙালি বৈদ্যব্রাহ্মণ পরিবারে ১৮৭০ সালের ৫ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন।তার পিতা ভুবন মোহন দাশ কলকাতা হাইকোর্টের সলিসিটার ছিলেন। জীবিকার তাগিদে তাঁর পরিবার ঢাকার বিক্রমপুর থেকে কলকাতায় গিয়ে বসবাস করেন। ভুবন মোহন দাশের বড় ভাইয়ের নাম দুর্গা মোহন দাশও আইনজীবী ছিলেন। ১৮৯৪ সালে কলকাতা হাইকোর্টে ব্যারিস্টার হিসেবে নিজের নাম তালিকাভুক্ত করেন। ১৯০৮ সালে অরবিন্দ ঘোষের বিচার তাকে পেশাগত মঞ্চের সম্মুখ সারিতে নিয়ে আসে।

  • আইনজ্ঞ হিসেবে চিত্তরঞ্জন দাস ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেন। অরবিন্দ ঘোষের বিপ্লবী মামলায় তাঁর যুক্তি যুগান্তর সৃষ্টি করে।
  • ১৯২০ সালে কংগ্রেসের কলকাতা অধিবেশনে তাঁর বক্তৃতা নবজাগরণের সুরে উদ্বেলিত হয়।
  • মতিলাল নেহরুর সঙ্গে ১৯২৩ সালে স্বরাজ পার্টি গঠন করে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক প্রতিরোধের এক নতুন ধারা চালু করেন।
  • জাতীয় শিক্ষা আন্দোলন ও ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির পক্ষে জোরালো অবস্থান নেন।

আজ সকাল থেকেই কলকাতার দেশবন্ধু মেমোরিয়াল হলে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও রাজনৈতিক দল তাঁর স্মরণে আলোচনা সভা, প্রদর্শনী ও প্রার্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
কলেজ স্কোয়ার সংলগ্ন দেশবন্ধু মূর্তিতে সকাল ৮টায় পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন মুখ্যমন্ত্রী সহ বিশিষ্টজনেরা।

প্রধানমন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেন
“চিত্তরঞ্জন দাস ছিলেন ভারতীয় রাজনীতির একজন মানবতাবাদী যোদ্ধা। আইন, শিক্ষা এবং জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর অবদান আজও প্রেরণাদায়ক।”

Loading