February 5, 2026

বিশ্ববাসীকে ‘হরেকৃষ্ণ’ মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ করা শ্রীল প্রভুপাদের ১২৯তম জন্মজয়ন্তী

সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ
আজ পালিত হচ্ছে শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ-জীর ১২৯তম জন্মজয়ন্তী। বৈষ্ণব জগতের এক উজ্জ্বলতম নক্ষত্র, যাঁর হাত ধরেই সঞ্জীবিত হয়েছে বিশ্বজুড়ে গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্ম, এবং যার জীবনের ব্রত ছিল একটিই—ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ভক্তি ও নামকে প্রতিটি প্রাণে পৌঁছে দেওয়া।

১৮৯৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন অভয়চরণ দে। শৈশবেই তিনি ভক্তিময় পরিবারে ধর্মীয় চেতনার বীজ পান। অধ্যয়নে তিনি যেমন ছিলেন মনোযোগী, তেমনি ভক্তিতেও ছিলেন একাগ্র। পরে, শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের শিষ্যত্ব গ্রহণ করে পেলেন জীবনের মোড় ঘোরানো নির্দেশ—“ইংরেজিতে প্রচার করো।”

প্রবীণ বয়সে, জীবনের ৬৯ বছরে তিনি ভারত থেকে একমাত্র উদ্দেশ্য নিয়ে পাড়ি দেন আমেরিকায়—কৃষ্ণভক্তির বার্তা পৌঁছে দেওয়া। সামান্য কয়েকটি পুস্তক, নামমাত্র অর্থ, কিন্তু অগাধ বিশ্বাস নিয়ে ১৯৬৫ সালে নিউইয়র্ক পৌঁছন প্রভুপাদ। পরবর্তী এক দশকে গড়ে তোলেন একটি আন্তর্জাতিক আন্দোলন—ইসকন (ISKCON: International Society for Krishna Consciousness)।

আজ ১৫০টিরও বেশি দেশে ইসকনের হাজারেরও বেশি মন্দির, আশ্রম, ফার্ম কমিউনিটি, স্কুল, রেস্টুরেন্ট ও ভক্ত সংঘ গড়ে উঠেছে। শুধু তাই নয়, তাঁর অনুবাদ ও ভাষ্য সহ শ্রীমদ্ভাগবত গীতা, ভাগবত পুরাণ, চৈতন্য চরিতামৃত বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ পাঠকের কাছে পৌছেছে।

ভক্তরা তাঁকে ‘প্রভুপাদ’ উপাধি দেন—যার অর্থ, “যাঁর চরণে প্রভুর আসন প্রতিষ্ঠিত।” তিনি শুধু ধর্মপ্রচারক ছিলেন না, ছিলেন এক ভক্তিপূর্ণ বিপ্লবের দিশারী। পাশ্চাত্যে, যেখানে মানসিক বিশৃঙ্খলা, বস্তুবাদের দৌরাত্ম্য চলছিল, সেখানে প্রভুপাদ উপহার দেন এক আধ্যাত্মিক আশ্রয়।

প্রভুপাদ ৮০টিরও বেশি গ্রন্থ রচনা ও অনুবাদ করেছেন, যা আজও বিশ্বের প্রধান প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হয়। তিনি ছিলেন একজন গভীর দার্শনিক, প্রাজ্ঞ ভাষ্যকার এবং সংবেদনশীল আচার্য, যিনি প্রাচ্যের আধ্যাত্মিক জ্ঞানকে পাশ্চাত্যে পৌঁছে দিয়ে সত্যিকার অর্থেই তৈরি করেছেন এক বৈশ্বিক বৈষ্ণব ঐক্য।

১২৯তম জন্মজয়ন্তীতে বিশ্বের নানা প্রান্তে ইসকন মন্দির ও ভক্তসমাজে পালিত হচ্ছে প্রভুপাদ স্মরণোৎসব। অনুষ্ঠিত হচ্ছে নামসংকীর্তন, ধর্মসভা, তাঁর রচিত গ্রন্থ পাঠ, মহাপ্রসাদ বিতরণ ও সমাজসেবামূলক কার্যক্রম।

Loading